বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, এম আর আক্তার মুকুলসহ অনেক বুদ্ধিজীবিরা অনেক সময়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা একেক রকম উল্লেখ্য করেছেন। খালেদা জিয়া তো কোন সংখ্যা উল্লেখ্য করে নাই। তাহলে তো খালেদা জিয়ার আগে তাদের নামে মামলা করা উচিৎ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা সরকার পতনের শেষ পেরেক বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবমাননা বাংলাদেশ সইবে না; কথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা তুলে নেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজনে করে ঢাকা মহানগর জাগপা।

এই বিএনপি নেতা বলেন, শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের আমলে বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি প্রথমে ২৮ হাজার শহীদের নাম লিপিবদ্ধ করেছিল। কিন্তু এটা কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। পরবর্তীতে দুই লাখের বেশিসংখ্যক নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘থ্রি মিলিয়ন’। তারপর থেকে এটাই শহীদের সংখ্যা ধরা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় তার সাজা হবে না। তারপরেও সরকার অপচেষ্টা করছেন। এ সরকার মামলাবাজ সরকার। যত অত্যাচার করুননা কেন জনগণের বিচার হল শেষ বিচার। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এদেশের জনগণ মেনে নিবে না। জনগণ জেগে উঠলে এ সরকারের পতন অনিবার্য।

তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তাই একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে রাজনীতি করতে দিবে না। তিনি গণতন্ত্রের রক্ষা কারী এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা মেনে নেওয়া যায় না।

সরকারের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, এ সরকার হামলা-মামলা বাজ, দুর্নীতি ও গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকার। খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহতার কোন লেশ মাত্র নেই। অনেক বড় বড় আইনজীবিরাও বলেছেন খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহ হয় নাই। তারপরেও সরকার এ মামলার অনুমোদন দিয়েছে। শুধু মাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

নগর জাগপার সভাপতি আসাদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

এমএইচ, কেবি