আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা হওয়ায় সংগঠনটির একটি আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এ সময় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মকাণ্ডকে অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিচারকসুলভ বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে আমি মর্মাহত, বাকরুদ্ধ। তিনি (বিচারপতি শামসুদ্দিন) যা করছেন, তা বিচার বিভাগের জন্য অবমাননাকর।’

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচারপতির (শামসুদ্দিন চৌধুরীর) বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে আমাদের আর বিব্রত করবেন না। একটি উদাহরণ দিচ্ছি- আজ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একটি আলোচনা সভায় আমার অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। যখন শুনলাম তিনি (বিচারপতি শামসুদ্দিন) এই সংগঠনের উপদেষ্টা, তখন আমি আর এ সংগঠনটির অনুষ্ঠানে যোগদান করিনি।’

বিচারপতি শামসুদ্দিনের মতো সুপ্রিম কোর্ট কিংবা প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশের অন্য কোনো নাগরিক এ ধরনের আচরণ করলে তাঁর ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতো? এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ হচ্ছে দেশের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। এর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও সব নাগরিকের। বিচার বিভাগের অমার্যাদা হয়, এ ধরনের আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের সবারই বিরত থাকা উচিত।’

এমএম