শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ‘বার্ডস আই ভিউ’ পর্যবেক্ষণ থেকে কিছু ব্যতিক্রমী চরিত্র সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রাকিব অন্যতম। ছাত্রশিবিরের প্যানেলের বিপরীতে নিজ গুণে যারা লড়াই করেছেন, জাকসু’র ভিপি জিতু ও রাকসু’র জিএস আম্মারও তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, এদের সবাইকে কাছ থেকে দেখার ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। এই ব্যতিক্রমধর্মী রাজনীতিই ছাত্রশিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। শুধু দলীয় পরিচয়ে মাইকিং, শোডাউন কিংবা বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেই রাজনীতি হয় না।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার নীতি খুবই সহজ ও সাদামাটা— তবে এর জন্য প্রয়োজন ত্যাগ ও পরিশ্রম। এই তিনজনসহ অন্যান্য ব্যতিক্রমী চরিত্রদের রাজনৈতিক কৌশল ও দর্শন ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ পেলে বিশ্লেষণ করে তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

রাকিব প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। সে সময় সব প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন— শিবিরের প্যানেলের কারও সঙ্গে আলাদা করে দেখা করবেন না, তবে শিবিরের বাইরে থাকা প্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করে দোয়া করতে চান। কিছুক্ষণ পর রাকিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। স্বভাবসুলভ হাসিতে সালাম দিয়ে রাকিব দোয়া চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় রাকিবের প্যানেলের একজন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে সবাইকে একটি করে ভোট দিতেন। তবে তা সম্ভব নয় বলে সবার জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহ যাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি কল্যাণকর মনে করবেন, তাদের বিজয় কামনা করেন। তিনি বলেন, যে-ই বিজয়ী হোক, সেটি ব্যক্তি বা দলের নয়— বরং সবার বিজয় হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাকিবরা নির্বাচনে জয়ী না হলেও বিজয়ীর মতোই জকসুর সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবেন। জবি ক্যাম্পাসের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিক সমাধানে সকল শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, “একটি বিশ্বমানের স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সাবেক জবিয়ানদেরও তোমরা পাশে পাবে ইনশাআল্লাহ।”

রাকিবসহ সকল প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বাসীদের জীবনে কোনো পরাজয় নেই— একটি অপ্রাপ্তি মানেই বড় কোনো প্রাপ্তির হাতছানি।

এনএইচ