শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজ নির্বাচনী এলাকা রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে জুমার নামাজ আদায় করেন জামায়াত আমির। নামাজ শেষে শিশু-কিশোরসহ স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নামাজে আসলে মানুষ আমাকে বলতেছে গ্যাস দেন, গ্যাস নাই; পানি দেন, পানি নাই। বিদ্যুৎ অবশ্য এখানে শহর হওয়ার কারণে কিছুটা ভালো। কিন্তু গ্রামে তো মানুষ একেবারে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যাচ্ছে।’

জনগণের চলমান সংকট নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান জামায়াত আমির।

এ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসলে বিরোধী দল সফল হয় না। সফল হয় সরকার। সরকারকে ভালো কাজে সহযোগিতা করার দায়িত্ব হলো বিরোধী দলের। সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করব।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারের সকল উদ্যোগ খারাপ, এটা আমরা বলবো না। কিন্তু জনজীবনের যে সাফারিংগুলো এটা আসলেই অতিষ্ট। এগুলা নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা করা উচিত। জুম্মায় আসার আগেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যিনি আছেন তাকে ফোন করে বলেছি, সংসদের অধিবেশন জরুরিভাবে ডাকেন।’

তবে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন দেশে যে সংকটগুলা চলতেছে জ্বালানি গ্যাস, তারপরে বিদ্যুৎ, পানি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি এবং চুরি ছিনতাই চতুর্দিকে শুরু হয়েছে; চাঁদাবাজি ঘাটে ঘাটে, বিভিন্ন মাত্রার দুর্নীতি। সরকারের লোকেরাই স্বীকার করছেন যে, দুর্নীতি বেড়েছে কমে নাই।’

নির্বাচনের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন ছয় মাসে কমবে তো কিছু, বাড়ে কেন? এর আগে উনারা বলতেন আমরা বলি নাই। উনারা বলতেন যে নির্বাচন হয়ে গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তো নির্বাচন তো হয়ে গেল। ছয় মাসও চলে গেল। এখন ঠিক না হয়ে বেঠিকটা বাড়তেছে কেন?’

সরকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কমাতে পারেনি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি এবং জনগণের গ্যাসের সংকটও দূর করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, ‘কিছু ভালো কাজ যদি হয়েও থাকে কিন্তু জনজীবনের এই সাফারিং গুলার নিচে এগুলা সব চাপা পড়ে যাচ্ছে।’

এস