তিনি কয়েকটি অর্থনৈতিক নির্দেশক ও সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স অনন্য ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে যে, সুশাসনের উন্নতি, দুর্নীতি হ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও বেদখল করেছে। একই প্রয়াস বর্তমান সময়েও পরিলক্ষিত হয়েছে। শ্বেতপত্র অনুযায়ী বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, টাকার হিসাবে যা পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা ফেরত আনা সম্ভব হলে সরকারের বাজেট ঘাটতিতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যমান মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে কতকগুলো নীতির ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে-রাজস্ব আহরণের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বহাল থাকবে; করজাল সম্প্রসারণ; অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া; কর আহরণে দুর্নীতি হ্রাস; কর রেয়াত ও মউকুফের যৌক্তিকীকরণ; এনবিআর ও দুদক সংস্কার ও পুনর্গঠন এবং এনবিআর সুশাসন নিশ্চিতকরণ এর দক্ষতা উন্নয়ন
বাজেট প্রস্তাবে এমপি মিলন বলেন, বর্তমানে মোট ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারধারীর (টিআইএন) সংখ্যা মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ, যার মধ্যে বর্তমান কর বছরে জমা দেয়া রিটার্নের সংখ্যা ৪০ লক্ষেরও কম। আমরা করজাল সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে উদ্যোগী। তাছাড়া উদ্যোক্তা সৃষ্টি, এসএমই খাতকে সমৃদ্ধ করা ও জীবনমান উন্নতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন করযোগ্য আয়ের সীমা ৪,৫০,০০০ টাকায় উন্নীত করা এবং পরবর্তী অর্থবছরে তা ৫,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করছি।