সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ মার্চ সোমবার ঢাকা মহানগরীতে হরতাল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এক বিবৃতি মহানগরী আমীর বলেন, সরকার ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যই গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে দেশে ধর্মীয় শিক্ষা ক্রমেই সংকোচন করা হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম থেকে ইসলামী শিক্ষা ব্যাপকহারে হ্রাস করে তার পরিবর্তে পাঠ্যসূচীতে নৈতিকতার নামে অনৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সরকার দেশের মানুষকে ধর্মবিমূখ করার জন্যই ইসলামী ব্যাক্তিদের চরিত্র হনন করার আয়োজন করেছে। মূসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়নের নামে সরকার ইসলামের মিরাসী আইনে হস্তক্ষেপ করার ধৃষ্ঠতাও দেখিয়েছে। গণমাধ্যমে ধর্মীয় ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করে বিকৃত ও বিভৎসভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে সমাজের অবক্ষয় এখন প্রান্তসীমায় পৌঁছে গেছে। ধর্মশিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চায় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় সমাজের সবত্রই নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। কোন ক্ষেত্রেই অবক্ষয়ের জয়জয়কারটা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার প্রসারে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মানবিক মূল্যবোধের স্তরটা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে দেশে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানী, চুরি, ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত দেশের মানুষকে ধর্ম ও ইসলামী মূল্যবোধ বিমুখ করে সরকার নিজেদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়। জাতিকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যেখানে সমাজের সকল স্তরে ইসলাম ও ইসলামীমূল্যবোধ চর্চা করা জরুরি, সেখানে সরকার হীনস্বার্থে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। যা দেশের তৌহিদী জনতা কোন ভাবেই মেনে নেবে না বরং যেকোন মূল্যে রুখে দেবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সরকার। কিন্তু বিশ্বের প্রায় অর্ধশত রাষ্ট্রে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম রয়েছে। এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খৃষ্টান, ইসলাম, হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে। তাহলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম মেনে নিতে সমস্যা কোথায় ? আসলে এদেশেরে এক বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত পরিকল্পিতভাবে ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে সরকার মুসলিম ও ইসলামী জাতিস্বত্তাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মূলত সাংবিধানিকভাবে আমাদের দেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্র। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রই হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মই হচ্ছে ইসলাম। তাই যেকোন মানদণ্ডেই ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম হওয়াটাই অপরিহার্য। আর ইসলাম পরধর্ম ও পরমত সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী। তাই ২৮ বছর ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে স্বীকৃত থাকার পরও বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন ও দাঙ্গার ঘটনা ঘটেনি। তাই যারা ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হওয়ার কারণে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুন্নের প্রশ্ন তোলেন তারা সঠিক কথা বলেন না বরং রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এমন মন্তব্য করে থাকেন। যার কোন যৌক্তিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নেই।
মাওলানা খান বলেন, ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কতিপয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কথিত ড্রেসকোডের নামে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের রহস্যজনকভাবে নিরবতা ইসলামবিরোধীদের পালে হাওয়া লেগেছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সরকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করে কী অর্জন করতে চায় জনগণ তা বোঝে। তাই ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি সরকারকে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র থেকে বেড়িয়ে আসার আহবান এবং সরকারের দেশ, ইসলামধর্ম ও জাতিস্বত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় এবং সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ মার্চ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল সফল করতে নগরবাসী, ঢাকা মহানগরী সকল অধঃস্তন সংগঠনের নেতাকর্মী, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।
এমআইএস।





