মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে সরকার ও বিত্তবানদের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত।
তিনি গতকাল মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের মাঝে নগদ অর্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মৌলভীবাজার শহর শাখার সাবেক সভাপতি মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম, শহর সেক্রটারি মিসবাহ উল হাসান, মাদ্রাসা সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও স্কুল সম্পাদক এমদাদ আহমদসহ শহর শিবিরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন, ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি হয়নি। পানিবন্দী হয়ে আছে জেলার ১০টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ। শহর রক্ষা বাধ ভেঙ্গে গেছে। বন্যায় ৬ জন মানুষ নিখোঁজ ও নিহত হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গিয়েছে। মাছ চাষিরা সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। এই বিপুল পরিমান মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছেন। তাদের ঈদও কেটেছে বহু কষ্টে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তায় তেমন কোন কার্যকরি উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। সমাজের বিত্তবানরাও সেভাবে এগিয়ে আসছে না। বন্যাদুর্গত জনগণের বিশাল একটি অংশ আজ মানবেতর জীবন যাপন করলেও সরকারের তরফ থেকে কোন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না। এমন দায়িত্বহীনতা অব্যাহত থাকলে বন্যা কবলিত এলাকায় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বন্যার্তদের কষ্ট লাঘবে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন জরুরী। আমরা আশা করি সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বন্যার্তদের সার্বিক ভাবে সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। একই সাথে বিত্তবানরাও এগিয়ে আসবেন। ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রশিবির সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছাত্রশিবির জনকল্যাণমূলক কাজ করে। ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে যার যার অবস্থানে থেকে বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।
এসএম





