বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকেই সচিবালয়ের সার্বিক পরিবেশ অন্যান্য দিনের তুলনায় ছিল বেশ ভিন্ন ও উৎসুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরের মতোই সকালে তাঁর নিজ দপ্তরে অবস্থান করেন এবং একটি বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেন। পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির এক উচ্চপর্যায়ের হাই-কমান্ড বৈঠক শুরু হয়। ওই বৈঠকেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তারেক রহমান। প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর পরই রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় বিধান বজায় রেখে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল।
স্থানী সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রদবদলের গুঞ্জন
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সচিবালয়জুড়ে শুরু হয় নতুন সমীকরণ ও আলোচনার ঝড়। সবার চোখ এখন—কে হচ্ছেন পরবর্তী স্থানীয় সরকার মন্ত্রী? নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অনানুষ্ঠানিকভাবে গুঞ্জন রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার আগেই বুধবার তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগ জমা দিয়েছেন।
সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি খালি হওয়ার পর মন্ত্রিসভার বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হতে পারে। জোর আলোচনা চলছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে এই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর সালাহউদ্দিন আহমদ সরলে শূন্য হতে যাওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এ ছাড়া একই দিনে শিক্ষামন্ত্রীকেও জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে এটি প্রশাসনিক কোনো নিয়মিত বৈঠক নাকি দপ্তর বদল সংক্রান্ত আলোচনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে?
কেবল মন্ত্রিসভায় রদবদলই নয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সরে দাঁড়ানোর পর বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—তা নিয়েও দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনভর চলেছে হিসাব-নিকাশ। বিএনপি হাই-কমান্ডের আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি হেভিওয়েট নাম। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হলেও সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে রুহুল কবির রিজভী যদি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান, তবে তাঁর শূন্য হওয়া পদে কাকে বসানো হবে তা নিয়েও দলটির ভেতরে চলছে জল্পনা। সে ক্ষেত্রে যুগ্ম মহাসচিব পদে থাকা সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল অথবা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বিবেচনা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সবাই
বৃহস্পতিবার দিনভর নানা আলোচনা, জল্পনা ও অনুমানের পারদ তুঙ্গে থাকলেও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন কিংবা দলীয় শূন্য পদগুলোতে নতুন মুখ আনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বিবেচনা করে দল ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান শিগগিরই চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন কেবলই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা।
এমএম