তিনি বলেছেন, সচিবালয় একটি নির্বাহী জায়গা। সেখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক করার কোনো নজির তার জানা নেই। এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপি গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আযাদ।

বিএনপির বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে! শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে—এটা অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নেই। এই কাজটি উনারা করছেন! তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, নাহলে স্বৈরতন্ত্র।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় মুখ্য নয় উল্লেখ করে আযাদ বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হওয়া উচিত নয়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জিতবো কি হারবো এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদকে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকলেও পরে আলাদা দল গঠন করেন এবং বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করা হলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন আযাদ। তার দাবি, বিএনপি চাইলে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে গণতন্ত্র চর্চার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারত।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। জুলাই সনদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারত।

আযাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আযাদ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একজন গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থী।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রয়েছে, ততক্ষণ সেই বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, সামসুল আলম আগে বিএনপির সঙ্গে ছিলেন এবং বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার অভিযোগ, ‘ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন, কামাল হোসেন, আবদুল বাতেন, জয়নাল আবেদিন, রাশেদুল ইসলাম, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার, এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাহমুদা মিতু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী।

এস