শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৯ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও লংমার্চের বার্তা
জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, "ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ কোনো একক দলের নয়, এটি দেশের আপামর জনগণের লংমার্চ। তাই এই কর্মসূচিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না। আমরা কোনো বাধা মানবো না।"
বিএনপির বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "আপনাদের আচরণ ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্রের দিকে চলে যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ওপর ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২৬৫টি আসন পেয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জনগণ এখন বলা শুরু করেছে—আওয়ামী লীগ তো এক জায়গায় আশ্রয় পেয়েছে, কিন্তু আপনাদের যে অবস্থা, আপনারা কোথায় পালাবেন? জনগণের স্লোগান ও ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন।"
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে জানানো হয়, তা না হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং দেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
লংমার্চের সময়সূচি ও রুট
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেলের সংকট নিরসন, দুর্নীতি ও দখলদারিত্ব বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে আগামীকাল ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
যাত্রা শুরু: শনিবার সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে জমায়েত এবং সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা।
রুট: ঢাকা থেকে শুরু হয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুরে প্রবেশ করবে।
সমাপ্তি: রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।
লংমার্চে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। রংপুর বিভাগের ২২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এ লংমার্চ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জমায়েতে রূপ নেবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমএম





