বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এটি সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম।

পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে আরও ৪টি কূপ

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানিয়েছে, কেবল তিতাস-২৮ নয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তিতাসের আরও তিনটি ও বাখরাবাদের একটি কূপ থেকে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

তিতাস-২৯: মূল খনন কাজ শেষ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আগামী ১ থেকে ১.৫ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাবে (দৈনিক ১০–১৫ মিলিয়ন ঘনফুট)।

তিতাস-৩০: কাজ শেষ হতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে (দৈনিক ১০–১৫ মিলিয়ন ঘনফুট)।

তিতাস-৩১ (গভীর অনুসন্ধান কূপ): ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে (দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট)।

বাখরাবাদ-১১: তিতাস-৩১ এর কাজ শেষে খনন শুরু হবে (দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট)।

সব মিলিয়ে এই পাঁচটি কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তিতাস ও কামতা ফিল্ডে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এই উন্নয়ন কাজসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

হ্রাস পাবে এলএনজি নির্ভরতা, অগ্রাধিকার পাবে শিল্প খাত

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে এতদিন ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল। দেশীয় নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ায় মহার্ঘ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্ত হতে যাওয়া এই বাড়তি গ্যাসের বড় অংশ শিল্প খাতে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এই গ্যাস ব্যবহার করা হবে, যা সামগ্রিক লোডশেডিং কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এমএম