বিএনপির ভিশন-২০৩০ এ আওয়ামী লীগ নার্ভাস ফিল করছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় দল কর্তৃক আয়োজিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।বলেছেন,
তিনি বলেন বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমাদের ভিশন, পরিকল্পনা থাকতেই পারে। কিন্তু তার আগের আওয়ামী লীগের নেতারা এটাকে ধাপ্পাবাজি ও ভাওতাবাজি বলছে। এসব কথা বলে তারা নিজেদেরকে নিজেরাই বোকা বানিয়েছে। আসলে তারা এই ভিশন নিয়ে নার্ভাস ফিল করছে।
আমির খসরু আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কিভাবে আইনের শাসন রাষ্ট্রের উন্নয়ন করা যায়, সেগুলো আমাদের ভিশনে রয়েছে। দয়া করে ভিশনটি পড়ুন অনেক কিছু শিখতে পারবেন। আপনাদের চোখ তো সব সময় পিছনে থাকে।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র গণতন্ত্র ছাড়া চলতে পারে না। সেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা যখন স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে আন্দোলন করি তখন আমরা জাতি হিসেবে অপমানিত হই। আজকের বাংলাদেশ যে উন্নয়নে এসে পৌঁছেছে তা বিএনপির সংস্কারের কারণে বলে দাবি করেন তিনি।
খসরু আরো বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা সব কিছুই অনুপস্থিত। এজন্য অনতিবিলম্বে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় দলের মহাসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম।
মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংগ্রামকে গুরুত্বহীন করা যাবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে কারা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন করার কলকাঠি নেড়েছে তাদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম এক ও অভিন্ন।
জাগপাার শফিউল আলম প্রধান বলেন, মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পরবর্তী আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিশ্বাস ঘাতকতার ইতিহাস। সবার সাথে ঐক্য করা যায় আপোষ করা যায়, কিন্তু, বিশ্বাসঘাতকের সাথে কোন ঐক্য-কোন আপোষ করা যায় না।
জেবেল রহমান গানি সম্প্রতি দেশের প্রধান বিচারপতি ও এটর্নি জেনারেলের বাক-বিতন্ডা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রের একজন অবিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। তার সাথে দেশের এটর্নি জেনারেলের এই ধরনের আচরন রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
তিনি বিএনপি চেয়াপার্সন ও ২০ দলীয় জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত 'ভিশন-২০৩০' কে যুগান্তকারী দলিল হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই দলিল বাস্তবায়নে জনমত তৈরী করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জাতীয় ঐক্য।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি না। ইতহাসের শিক্ষা হলো আন্দোলন ছাড়া কোন স্বৈরশাসক ক্ষমতা ত্যাগ করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় যে গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি অধিষ্ঠিত রয়েছে তাকে বিদায় করতে হল প্রয়োজন গণআন্দোলন।
সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষার চলমান সংগ্রাম সফল করতে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে চূড়ান্ত বিজয় লাভ সম্ভব নয়। তাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী।
জেড





