বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বিএনপির ওপর নির্যাতন ও আক্রমণ করার জন্য ছাত্রলীগকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে না।

রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় বিবিসি-বাংলাদেশ সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ কি দেখা যাচ্ছে? দর্শকদের করা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে জামায়াত-শিবির ও স্বৈরাচারীদের অনুপ্রবেশ হয়েছে। তা না হলে ছাত্রলীগ এমন বর্বর আচরণ করত না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, রাজনীতিকে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন নেতারা। ছাত্রলীগ তাদের আদর্শ ঠিক রাখছে না, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো ভালো কাজের ক্ষেত্রেও চাঁদাবাজি করে টাকা তোলার অভিযোগ আছে।

তিনি বলেন, কেউ যখন খারাপ কাজ করে তখন তারা সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মোকাবেলা করতে হবে। ছাত্রলীগ বারবার এমন অনিয়ন্ত্রিত কাজ করছে। কিন্তু সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

বাংলাদেশে জঙ্গি সম্ভাবনা আছে কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে কাজী জেসিন বলেন, সম্ভাবনা আছে এবং এটা নিয়ন্ত্রণ করতে রাজনীতিবিদদের আরও সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশে জঙ্গির সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। জঙ্গি দমনের নামে যেন বিরোধীদের দমন না করা হয়। তাহলে সরকার আরও বেশি ঝামেলায় পড়বে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গির মূল উৎপত্তি হল যুদ্ধাপরাধ। সন্ত্রাসী ও জঙ্গির বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

জেআই