কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আমার ভাই লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী ষড়যন্ত্রের শিকার। সে আওয়ামী লীগের চাপে পড়ে ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে বিতর্কতি মন্তব্য করায় আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। আমার ভাইও বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, নিউ ইয়র্কে হজ ও তাবলীগ নিয়ে এসব কথা আমার ভাই বলতে পারেন না। এই অবৈধ সরকার লতিফ সিদ্দিকীকে দিয়ে এসব কথা বলিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে নিতে চাইছেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লতিফকে আমি চিনি না। কিন্তু তিনি আমার রক্তের সম্পর্কের ভাই। তাই তার এই বক্তব্যের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লাহ ও দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে আমি এখানে এসেছি।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, একজন মুসলমান হয়ে তার এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। যদি তিনি ক্ষমা না চান তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী। তিনি তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অরাজকতা নিরসনে সকল দলের অংশগ্রহণে অবিলম্বে আরেকটি নির্বাচনের দাবি জানান। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনে করে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই এই অরাজকতা দূর হবে।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (বীর প্রতিক), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে সেদেশে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তবলীগ জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার ঝড় তোলেন।
তিনি বলেন, আমি হজ আর তবলীগ জামাতের ঘোরতরবিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তবলীগ জামাতের বেশি বিরোধী। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোন কাম নাই। এদের কোন প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।
তবলীগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তবলীগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোন কাজ নেই। সারাদেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।
টক শো-তে যারা অংশ নেন তাদের টক মারানি আখ্যা দিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, নিজেদের কোন কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে আর কোন কাজ নেই।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বার বার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব। আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’
প্রবাসীদের উদ্দেশে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সবসময় কামলাই দেবেন। প্রবাস থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলোকে টয়লেট পেপার বলে মন্তব্য করেন।
এমআর





