বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
বিবৃতিতে সব যোগ্য প্রার্থীর চাকরির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে সম্পূরক গেজেটের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতারা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ‘সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সরকার দলীয়করণের পথে হাঁটছে। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের বৈধ নাগরিকদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দিয়েছে। এমনকি মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে—জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে পারিবারিক বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা যোগ্য প্রার্থীরাও গেজেট থেকে বাদ পড়ছেন। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেন তারা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করা নাগরিকের অধিকার। এ কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ’ উন্মুক্ত করতে পারে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান এবং মেধার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিএনপি সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে নতুন একটি ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’র দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।
ভাইভায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর বৃদ্ধির সুপারিশ, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির অনুকূলে দলীয়করণের অভিযোগও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং অন্যদিকে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারকে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলার শামিল। তাদের দাবি, ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।
মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠনেরও দাবি জানান ছাত্রশিবিরের নেতারা।
উল্লেখ্য, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেটে ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগে সুপারিশ পাওয়া ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। গেজেটে বাদ পড়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এনএইচ











