জটিল রোগে আক্রান্ত শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রাবি শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে জটিল রোগে আক্রান্ত (থ্যালাসেমিয়া) রাবির ছাত্র শিবির নেতা হাফিজুর রহমানকে সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাই করতে পারতো না এবং প্রতি তিন মাস পরপর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। এ বিষয়টি পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে ধরে তার মুক্তি দাবি করা হলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি।

উল্টো রাবি শিক্ষক হত্যার মত স্পর্শকাতর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারাগারেও তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। অবশেষে কারান্তরীন হয়ে গতরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে ঘাতকের মত পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গুরুতর অসুস্থ একজন ছাত্রের ওপর পুলিশ ও প্রশাসনের এই বর্বর আচরণ অবৈধ সরকারের হত্যাযজ্ঞের তালিকায় আরেকটি নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু একজন মেধাবী ছাত্রের জীবন নিয়ে পুলিশ প্রসাশনের কেন এই বাড়াবাড়ি? সর্বশেষ পুলিশ রাবি শিক্ষক হত্যার সঙ্গে চার জেএমবি সদস্য জড়িত বলে দাবি করেছে। তাদের এই বক্তব্য যদি সত্যই হয়ে থাকে, তবে রাবির মেধাবী ছাত্র হাফিজুর রহমানকে কেন এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো? এর জবাব পুলিশকেই দিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আইনের পবিত্র দায়িত্ব কাধে নিয়ে পুলিশের এই দানবীয় আচরণ দেশবাসীকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে। এমন পাষণ্ডতায় তাদের প্রতি মানুষের ন্যূনতম শ্রদ্ধা ও আস্থার জায়গাটিও ঘৃণা এবং ধিক্কারে ভরে গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে জুলুমকারী পুলিশ সদস্যরা মুক্তি পেতে পারেনা।

অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিবির নেতা হাফিজুর রহমান হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। অন্যথায় হত্যাকারীরা অচেনা নয়। সময়ের ব্যবধানে তাদের কঠোর বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

এআই