তিন দিকে ভারত বেষ্টিত বাংলাদেশ কী কারণে দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় সে বিষয়টি জানতে চান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যুব জাগপার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'সামরিক চুক্তি-গোলামী চুক্তি, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
গয়েশ্বর বলেন, 'বাংলাদেশকে আক্রমণ করতে পারে সীমান্ত এলাকায় এমন দেশটি কোথায়? আমাদের তিন দিকের সীমান্ত ভারতের সঙ্গে আর দক্ষিণে সাগর। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেবে- এমন সম্ভাবনাও কিন্তু নেই। তাহলে কী কারণে সামরিক চুক্তি বা স্মারক?'
তিনি বলেন, 'আমাদের সেনাবাহিনী আছে, সামরিক বিশেষজ্ঞ আছে, রাজনৈতিক দলগুলো আছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা আছেন। তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ না করে গোপনে কেন এতো দৌড়-ঝাঁপ? কী কারণে জরুরি এই মুহূর্তে সামরিক চুক্তি বা স্মারক?'
প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'আমাদের তিস্তা চুক্তি, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা- এসবের কোনো খবর নেই। আমরা মনে করি না, দেশের জন্য সামরিক চুক্তির প্রয়োজন আছে।'
'সরকারকে বলব- এখনো সময় আছে দেশের রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করুন দেশটাকে বাঁচাতে। দেশটাকে যদি পৈত্রিক সম্পত্তিও মনে করেন, তাহলে এ পৈত্রিক সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। কিন্তু স্বাক্ষর করার জন্য ভারত যাবেন না' যোগ করেন তিনি।
পুলিশ-র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যা কড়া সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, 'দেশটাকে কসাইখানা বানানো হচ্ছে। নিরবে-নিভৃতে শুধু মানুষ খুন, গুম হচ্ছে। প্রতিবাদ করার লোক নাই, সবাই চুপচাপ। ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদের ভাষাকে শানিত করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'জঙ্গি-টঙ্গি শুনছি। হয়তবা আছে কিন্তু জনগণ বিশ্বাস করে না। মানুষ নানা ধরনের কথা বলে যা গণমাধ্যমে আসে না। আমরা কানে শুনি। সরকারের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নাই।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, 'ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তির আগে এই ধরনের (জঙ্গিবিরোধী অভিযান) ঘটনা ঘটবে। কয়েকটি দিন পর দেখবেন চুপচাপ হয়ে গেছে- এটা সাধারণ মানুষের পারসেপশন (ধারণা)।'
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'আজকেও আমার ভয় হয় যেভাবে ইনু চিৎকার করছে। শেখ মুজিবকে তো কবরে নিছে, মনে হয় এখন তার মেয়ে শেখ হাসিনাকে কবরে না নিলেও কফিন পর্যন্ত নেবে। তখনই ইনুর চিৎকার শান্ত হবে।'
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ উদ্দিনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ কেন্দ্রীয় নেতা খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান আসাদ, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা প্রমুখ।
জারিফ





