সরকার হেফাজতে ইসলামকে বুঝিয়ে সঠিক পথে এনেছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, তারা এখন শুধু ধর্ম নিয়ে কাজ করছে।
আজ (২৯ জুন) শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটি আয়োজিত ‘গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছর : তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এইসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
শাহরিয়ার আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ৬ জনের মধ্যে একজন বিদেশে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। দুজনের অবস্থান আমরা খুবই পরিষ্কার ভাবে জানি। এর বাইরে আরও তিনজনের অবস্থান সম্পর্কে আমরা শুনেছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হত্যাকারীরা যেসব দেশে আছেন তাদেরকে ফিরিয়ে আনা একটু কঠিন। তবে সেসব দেশের সাথে কনস্ট্রাক্টিভলি আমরা যুক্ত হয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, তাদেরকে দেশে এনে রায় কার্যকর করা সম্ভব।
ভারত দ্বারা সরকার কতটা প্রভাবিত? এমন এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে ভারত। তারা আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য ভারত সরকার তাদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ও করেছে। ভারতের সাথে আমাদের শেকড়ের সম্পর্ক। কোন বন্ধুপ্রতীম দেশকে হেয় করার মতো নোংড়া রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে অপপ্রচার চলছে সেটা বিএনপি-জামায়েত এর অপপ্রচারের ফল। আওয়ামী লীগ ৭০ বছরের ইতিহাসের মধ্যে ৫৬ বছর বিরোধী দলে ছিল। কতটা শক্তিশালী হলে একটি দল বারবার ক্ষমতায় আসে!
দেশের পিছিয়ে পরা নৃ-গোষ্টি নিয়ে সরকার কী ভাবনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সকল ধর্ম, শ্রেণী, পেশার মানুষের জন্য। তাই পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির জন্য সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ও বাজেটে উল্লেখ করেছেন। সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চত করার ক্ষেত্রে সরকার সচেতন।
হেফাজত ও সরকারকে এক মঞ্চে দেখা যায়- এতে আওয়ামী লীগ কী তাদের ধর্ম নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা কিছু না বুঝেই একজন মানুষকে কাফের বলে ঘোষণা দেন। এতে অনেক মানুষ তাদের বিশ্বাসও করে। তারা যে ভুল করছে এটা বোঝাতে সরকার তাদের সঙ্গে বার বার বসেছে। এতে তাদের ভুলগুলো বুঝতে পেড়েছে।
তিনি বলেন, এখন তারা আর কথায় কথায় কাউকে কাফের বলে না। তারা এখন শুধু ধর্ম নিয়ে কাজ করছে। সরকার শুধু তাদেরকে বুঝিয়ে সঠিক পথে এনে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়তে চেয়েছে। আদর্শগত দিক থেকে সরকার এক পাও নড়েনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নারী নেত্রী অধ্যাপক মেরিনা জাহান প্রমুখ।
এমবি





