বুধবার দুপুরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বাধা দিলে কদম ফোয়ারার সামনে তারা সমাবেশ করে।
সমাবেশে জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশর ৫৪টি নদীকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার সব কিছু জেনেও এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।’
সরকার ভারতের সঙ্গে পানি নিয়ে যখন কথা বলে তখন তারা মিউমিউ ধ্বনিতে কথা বলে। ভারত এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে এবার বোরো মৌসুমে কৃষকের ৩শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397641987.jpg[/img]
পররাষ্টমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করতে না পারলে শিগগিরই পদত্যগ করুন। কারও দাসত্ব করে বাংলাদেশকে ধ্বংস করবেন না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ভারত বলেছে এক মাসের মধ্যে তিস্তার পানি সমস্যা নিরোধে তাদের প্রতিনিধি পাঠাবে। কিন্তু এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো তারা কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে তারা এ বিষয়ে সমাধানে আসবে না।’
মোশরেফা মিশু বলেন, ‘নদী ও পানির সমস্যা সমাধান করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন আদালত থাকলেও সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
বাম মোর্চার  সমন্বয়ক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাসদের সমন্বয়ক হামিদুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।  
এদিকে বাম মোর্চার নেতা-কর্মীরা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ করতে গেলে দুপুর ১২ টার সময় পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। পরে তারা ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলে মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওনা দিলে পুলিশ তাদেরকে কদম ফোয়ারার সামনে আটকে দেয়।
এসময় বাম মোর্চার নেতাদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়। এরপর পুলিশ তাদের ওখানেই থামিয়ে দেয়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। এক পর্যায়ে বাম মোর্চার নেতারা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
[b]ঢাকা, ১৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]