“শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হত্যা-খুনের রাজনীতির অবসান, আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের জেল হত্যাদিবস পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
দিবসটিতে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার করার আয়োজন করেছে তারা। এ উপলক্ষ্যে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।
জেলহত্যা দিবসের জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এর মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ একটি বর্ধিত সভা করেছে, ২৬ অক্টোবর শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যলয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ২৯ অক্টোবর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ একটি সভা করেছেন।
এদিকে জনসভা সফলের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিতে গত ১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে বর্ধিত সভা করেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।
জেলহত্যা দিবসের সমাবেশ সফল করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দলের অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তারা তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশে লোক সমাগম, নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর ভাবে নির্দশনা দিয়েছেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের একটি ঘনিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচি সফল করতে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার আশ-পাশের সব জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলহত্যা দিবসে জাতীয় নেতাদের ঐতিহাসিকভাবে স্বরণ করতে চায় আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট যে প্রশ্ন তুলছেন, তা ঢাকতে এই কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটিয়ে তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চায় দেশের ৮০ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে।
এছাড়াও বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় বার বার সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। তাই জেলহত্যা দিবসে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের অবস্থার জানান দিতে চায় শাসক দল।
সমাবেশ সফল করতে জাতীয় শ্রমিক লীগের গত ২৯ অক্টোবরের প্রস্তুতি সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম-হানিফ বলেন, জাতীয় নেতাদের আমরা ঐতিহাসিক ভাবে স্বরণ করতে চাই।
এজন্য দলের অঙ্গ-সহযোগি ও ভ্রাতৃপ্রীতম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে। এই জনসমাবেশে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটাতে হবে। এটা দিয়ে আমরা প্রমাণ করতে চাই। দেশের ৮০ ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।
এসময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সমাবেশকে আপনাদের জন সমুদ্রে পরিণত করতে হবে। তাই যার যার প্রতিষ্ঠান থেকে মিছিল নিয়ে শু-শৃঙ্খলভাবে সমাবেস স্থলে চলে আসবেন।
একই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ৩ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করবো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
একই স্থানে ৭ নভেম্বর বিএনপিও সমাবেশ করার ঘোষাণা দিয়েছে। ওদের সমাবেশে শয়তানে মাঠ ভরে। ওদের চেয়ে যেন আমাদের মানুষ কম না হয়। সবাই শান্তি প্রিয় ভাবে ৩ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হবে।
এদিকে আজ ২ নভেম্বর (রোববার) ৩ নভেম্বরের সমাবেশ স্থাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে করতে আসবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ বলেন, জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচির আয়োজন সম্পন্ন করা আছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা আশা করছি ব্যাপক লোকের সমাবেশ সমাগম করাতে পারবো।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, অন্যান্য বছরের মত এবারও আমরা গতানুগতিকভাবে জেল হত্যা দিবস পালন করবো।
এখানে আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রীতম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও ঢাকাসহ এর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদেরও এই সমাবেশে যোগদান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন দলের ৬৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করে ছিল আওয়ামী লীগ। তিন দিনের এই কর্মসূচি পালন করা হলেও তা ছিল একেবারে কর্মী শূন্য। সেই ধরনের কোন পরিস্থিতিতে যাতে আর পরতে না হয় এ জন্য ৩ নভেম্বরের সমাবেশকে লোকে-লোকারণ্য করতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলীয় নেতারা।
এমআর/এসএইচ





