দেশের বিদ্যমান সংকট উত্তরণ ও ‘সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ’ দমনে সরকারের জন্য দুটি পথ খোলা আছে বলে মনে করে বিএনপি। পথ দুটি হলো- ‘অবিলম্বে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা’ এবং ‘সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদকে দমন করা।’
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় দলের নেতারা এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি সব ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। সরকার বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করে তিনি এর নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি দেশে সাম্প্রতিক বিদেশী নাগরিক, ব্লগার ও পুলিশ সদস্য হত্যা ও আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে দুর্বল এবং নিঃশেষ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে বলেই আজকে বিপথগামী এবং উগ্রবাদীরা এই সুযোগ গ্রহণ করে দেশে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এসময় দেশে উগ্রপন্থীদের ‘উত্থানের’ নেপথ্যে সরকারকে দায়ী করে মওদুদ আহমেদ।
তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে যদি দুর্বল করে দেন সেখানে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসীরা সুযোগ গ্রহণ করে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করবে। তাই সরকার যদি দুটি কাজ করে, দেশে নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে এবং সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে তাহলে দেশে জঙ্গিবাদ থাকবে না। যদি দেশকে ভালোবাসেন, আন্তরিক হন, সত্যিকার অর্থে যদি জঙ্গিবাদ দমন করতে চান, তাহলে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।
বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং গণতান্ত্রিক প্রবাহকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মওদুদ আহমেদ। জঙ্গিবাদ দমনে বিএনপি সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সারাদেশে যৌথ অভিযানের নামে পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে মওদুদ বলেন, সরকারের এই নীতি ভুল। এই বিষয়টি দেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, দেশে ব্লগারকে হত্যা, বিদেশি নাগরিক ও পুলিশ খুন এবং পুলিশ ও একজন ধর্মযাজকের ওপর হামলারও নিন্দা জানান মওদুদ।
আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী দিনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ.স.ম. হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম বীর প্রতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোস্তাহিদুর রহমান, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও সহদফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি।
এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আযাদ, সহদফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন, সহপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আকতার, রেহেনা আকতার রানু প্রমুখ।
এমএইচ





