শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী তা’লীমুল কুরআন বিভাগের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাস্তব জীবনে সহিহভাবে অর্থসহ কোরআন পড়তে শেখা প্রত্যেকের জন্যই ফরজ। পবিত্র কোরআন সহিহভাবে পড়তে ও শিখতে হবে, এর অর্থ বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে হবে। কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষদের নবী, রাসুল ও পয়গম্বর হিসেবে বাছাই করেছেন এবং তাঁদের ওপর কিতাব নাজিল করেছেন। নবী-রাসুলরা আল্লাহর দেওয়া কিতাব অনুযায়ী মানুষকে তাঁর পথে আহ্বান করেছেন। তাই মানুষের জন্য আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা জানা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জামায়াত আমির বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহ পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। মুসলমানদের কোরআন সহিহভাবে পড়া শেখার পাশাপাশি এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে। কোরআনের নির্দেশনা বুঝে তা জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলেই কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন আল্লাহর কিতাব মেনে চলেছে, তখন তারা দুনিয়ায় সম্মানের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করেছে। আর যখন মানুষ আল্লাহর কিতাব থেকে দূরে সরে গেছে, তখন তাদের জীবনে নানা ধরনের বালা-মুসিবত এসেছে। কোরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং দুনিয়ায় লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান ছাড়া কোরআনের হুকুম মেনে চলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি অন্য মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করাও সম্ভব নয়। যারা মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেবেন, তাঁদের নিজেদের জীবনেও কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে হলে বাস্তব জীবনের সর্বক্ষেত্রে কোরআনের হুকুম মেনে চলতে হবে। শুধু মুখে দাওয়াত দিলে তা মানুষের ওপর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে না। একজন দাঈর নিজের কথা, কাজ ও আচরণের মধ্যেও ইসলামের শিক্ষা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
জামায়াত আমির বলেন, দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংকীর্ণতা রাখা যাবে না। সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে হবে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার মাধ্যমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
তিনি কোরআন শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে কোরআন পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোরআন পাঠের পাশাপাশি এর অর্থ, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা অনুধাবন করে ব্যক্তিজীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কোরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই তার জীবন আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর তা’লীমুল কুরআন বিভাগের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে কোরআন শিক্ষা, এর সঠিক অনুধাবন এবং মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম পরিচালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। তিনি কোরআন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং সাংগঠনিক পর্যায়ে তা’লীমুল কুরআন বিভাগের কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া সম্মেলনে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং তা’লীমুল কুরআন বিভাগের প্রধান উস্তাজ মাওলানা আব্দুর রহিম।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমানের মূল বার্তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কোরআনকে জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নাজিল হয়নি; বরং এর নির্দেশনা বুঝে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তা অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কোরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন ছাড়া ইসলামের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা কঠিন। একই সঙ্গে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জ্ঞান, আমল ও আন্তরিকতার সমন্বয় প্রয়োজন।
সম্মেলনে তিনি কোরআন শিক্ষাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে সহিহ তিলাওয়াত শেখা, অর্থ বোঝা, কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা এবং অন্যদের আল্লাহর পথে আহ্বান করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা গেলে মানুষের জীবন সার্থক হবে। তাঁর ভাষায়, কোরআন সহিহভাবে পড়া, শেখা, বোঝা ও মানার মধ্য দিয়েই দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তির পথ তৈরি হয়। তাই মুসলমানদের কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি এর শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
সম্মেলনের বক্তারা তা’লীমুল কুরআন বিভাগের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কোরআন শিক্ষার প্রসারে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন আলোচনা ও পর্বের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়।
এমএম