রাজধানীর সবুজবাগ-মুগদা জোনের উদ্যোগে শনিবার (২২ আগস্ট) আয়োজিত দলের এক রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে ড. মাসুদের নিজস্ব অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে উক্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিও বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিরোধী বা শাসক জোটের সাম্প্রতিক তৎপরতা তুলে ধরে বলেন, “নতুন করে শুনতেছি, বিএনপি যদি আমাদের নিষিদ্ধ করে দেয়, তো কী হবে? আমি বলি—আমাদের নিষিদ্ধ করলে কী হবে, সেটা পরে দেখেন; তার আগে দেখেন, যারা অতীতে আমাদের নিষিদ্ধ করেছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের কী পরিণতি হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণমুখী রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে রাজপথে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যখন নিষিদ্ধের পথ বেছে নেয়, তখন দেশের জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করে। অতীতেও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কোনো আন্দোলন বা আদর্শকে থামানো যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবুজবাগ-মুগদা জোনে আয়োজিত এই রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. মাসুদ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করা, রুকনদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন: ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা: যেকোনো উসকানিমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজ জোরদার করা। সংগঠন সম্প্রসারণ: তৃণমূল পর্যায়ে দলের রুকন ও কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং আদর্শিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নানান তাত্ত্বিক আলোচনা ও বাদানুবাদ তৈরি হয়েছে। সরকারি দল বা অন্যান্য মিত্র জোটের একাধিক নেতার পক্ষ থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি তোলার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে এই ধরনের সরাসরি এবং কঠোর জবাব এলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. মাসুদের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতের শক্ত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রতিপক্ষকে অতীতের রাজনৈতিক ফলাফলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক বা আইনি নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে জামায়াতকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এমএম