ট্যাক্স-ভ্যাটের জন্য রাস্তাঘাটে গাড়ি ধরা, ফ্যাক্টরিতে তালা দেওয়াকে বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নব-নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ডিসিসিআই-এর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কাসেম খান। সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

সভায় ডিসিসিআই-এর একজন নেতা মন্ত্রীকে জানান, ভ্যাটের জন্য ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তাঘাটে গাড়ি ধরে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে, ফ্যাক্টরিতে তালা দেওয়া- ট্যাক্সের জন্য বা ভ্যাটের জন্য এগুলো মনে হয় ঠিক নয়। এটা মনে হয় একটু বাড়াবাড়ি। এ ব্যাপারে আমাদের যত্নবান হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যাতে বিব্রত না হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে অসন্তুষ্ট না হয়, ভ্যাট ইত্যাদি নিয়ে যাতে সমস্যা না হয়, আমরা তা সমাধান করতে সমর্থ হব।’

‘প্যাকেজ ভ্যাট নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে একটা কার্যক্রম...আবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে’বলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল।

বাণিজ্য বৃদ্ধিতে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন চেম্বারের সমন্বয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় মিলে আমরা একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চলেছি। আশা করি, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা পাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কীভাবে আমরা রফতানি বৃদ্ধি করতে পারি, কীভাবে আমরা পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে পারি, তা চিহ্নিত করতে পারব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দিয়ে একটা দেশ হয়, এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা আছে।’

বেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) কারণে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চ মাসে কমনওয়েলথ ট্রেড মিনিস্টারদের মিটিং আছে লন্ডনে, সেখানেও যাব আমরা। আমরা আশা করি, যে সুবিধটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আওতায় আমরা পাই, বরং এর থেকে আরে বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

প্রতিনিধিদলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক কস্ট অব ডুইং বিজনেস আমাদের দেশে বেশি, আমাদের উৎপাদনশীলকতাও কম। আমাদের ৭০ ভাগ আর ভারতের ৯৫ ভাগ। উৎপাদনশীলতা বাড়লে কস্ট অব ডুইং বিজনেসও কমবে।’

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

এমই