বিএনপির জনসমর্থন দেখে বর্তমান সরকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এর আয়োজন করে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সরকার বড় গলায় ঘোষণা করেছিলো, রাজনীতিতে বিএনপির অস্তিত্ব নেই। কিন্তু তারা দেখেছে, বেগম জিয়া দেশে আসার পর রাস্তায় গণজোয়ার উঠেছিলো। কক্সবাজার যাওয়ার পথে জনসাধারণেরর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। ১২ নভেম্বরের সমাবেশে আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ, রাজধানীতে সকল গণ-পরিবহন বন্ধের পরও জনস্রোত বয়ে গিয়েছিলো। বিএনপি’র প্রতি মানুষের সমর্থনের এ জোয়ারে সরকার দিশেহারা।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে দূরে রাখা হয়েছিলো। তবে ২০১৪ আর একাদশ নির্বাচন এক নয়। অনেক নদীর পানি গড়িয়েছে, বেগম জিয়া ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া যাবে না। আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে। যত ষড়যন্ত্র করা হোক, এই নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অংশ নিবে। সরকার যদি ২০১৪-এর মতো নির্বাচন করার চেষ্টা করে, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়, জনগণ তাহলে রাস্তায় নেমে তাদের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার উদ্ধার করবে।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানে, জিয়ার বিরুদ্ধে, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কেননা যারা এ দেশের ভালো চায় না, সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না, গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়; তারা জিয়াকে সহ্য করতে পারে নি,তারেককেও সহ্য করতে পারছে না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার অনেকবার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেছে। ১/১১-এ একবার তারেককে জেলে ঢুকিয়ে রিমান্ডের নামে মেরুদণ্ড ভেঙে ও বেগম জিয়াকে জেলে দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ও তার মন্ত্রীরা বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিবেন, তারেক জিয়াকে আসতে দিবেন না, বিএনপিকে রাজনীতি শুন্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন, বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ সম্পাদক শাম্মী আকতার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া আলিম প্রমুখ।