ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অপরাজনীতির অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কমিটির ৭৯ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।
একইসঙ্গে সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে দপ্তর সম্পাদক আতিক শাহরিয়ারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন নেতাকর্মীরা। এসময় তারা বর্তমান কমিটিকে মেয়াদত্তীর্ণ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তা ভেঙ্গে দিয়ে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৮ মে মুর্শেদুজ্জামান খান বাবুকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বাবু-সাইফুল তার অনুগত কিছু ক্যাডার নিয়ে ক্যাম্পাসে মাদক, শিক্ষার্থী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছিত করা, টেন্ডার ও চাঁদাবাজি, ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এসব অপকর্মের জন্য এখন পর্যন্ত চারটি মামলা হয়েছে। কেওয়াটখালীতে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো.জসিমউদ্দিনের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নুরে আলম, যুগ্ম-সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম খানসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতারা দাবি করেন, বর্তমান কমিটি ২০১৩ সালে গঠিত হয়ে দুই বছরের অধিক সময় পার করলেও নতুন কমিটি না দেয়ায় নেতৃত্বে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবিও করেন তারা।
ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর, চাঁদাবাজি, অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্মসম্পাদকসহ সাত নেতা জেল হাজতে আছেন এবং দুই সহসভাপতি ও একজন যুগ্মসম্পাদক চার্জশিট ভূক্ত আসামী রয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বর্তমান কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ তার অনুসারীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং মেয়াদত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
তবে কার কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান সভাপতি ও তার অনুসারীরা পলাতক এবং সাধারণ সম্পাদক জেলহাজতে থাকায় পদত্যাগ পত্র সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট পাঠানো হবে।
ছাত্রলীগের নেতাদের গণপদত্যাগ ও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ওপর অনাস্থা বিষয়ে মন্তব্য জানতে বর্তমান কমিটির সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান বাবুর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মুশের্দুজ্জামান খাঁন ঈদের ছুটির পর আর ক্যাম্পাসে ফেরেননি।
কেএইচ





