আর মাত্র ক'দিন পর শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। তাই প্রতিমার গায়ে শেষ ছোঁয়া দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। এ উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ৩৮০টি পূজামণ্ডপে চলছে জোড় প্রস্তুতি।
জেলা সদর, সাটুরিয়া, ঘিওর, দৌলতপুর, সিংগাইর, হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে প্রতিমা শিল্পীরা। এসব মন্দিরগুলোতে শুধু দেশী শিল্পী নয়, কলকাতার শিল্পীরাও কাজ করছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের চাইতে এ বছর মন্দিরের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। এ বছর মানিকগঞ্জ জেলায় ৩৮০টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় ২২টি, সদর উপজেলায় ৬৩টি, সিংগাইর পৌর এলাকায় ১০টি, সিংগাইর উপজেলায় ৭৮টি, সাটুরিয়ায় ৫৭টি, ঘিওরে ৬৩টি, হরিরামপুরে ৫৮টি, শিবালয়ে ৭৭টি ও দৌলতপুরে ৪০টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মন্দির ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও অনেক বাড়িতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।
মানিকগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বড় পূজা অনুষ্ঠিত হয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির, বাজারের শ্রীশ্রী লক্ষ্মী মন্দির, শিববাড়ির শ্রীশ্রী শিব সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, দাশড়া শ্রীশ্রী কালীখোলা মন্দিরে। জেলা শহরের বাইরে অনেক জাঁকজমক পূজা অনুষ্ঠিত হয় ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরিতে মালাকার বাড়ির মন্দিরে।
ঢাকার ভেনাস জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গঙ্গাচরণ মালাকার হচ্ছেন ওই পূজার আয়োজক। মন্দিরগুলোর মধ্যে শিববাড়ির শ্রীশ্রী শিব সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরটি অনেক পুরানো। এর বয়স হচ্ছে ৫০০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ২০০ বছর ধরে পূজা অর্চনা হচ্ছে শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে। তবে প্রতিটি মন্দিরের আয়োজকরা চেষ্টা করে প্রতি বছরই কিছু ভিন্নতার।
শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি শংকর লাল ঘোষ জানান, এবছর প্রতিমা তৈরিতে কলকাতার থেকে কাজ শিখেছে এমন একজন শিল্পীকে আনা হয়েছে। তাদের আশা অন্য বছরের চাইতে এবছর তাদের প্রতিমাটি অনেকটাই ভিন্নধর্মী হবে। যা কিনা দর্শনার্থীদের মন কাড়বে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. অসীম কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকবে।
ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





