ইসলাম এমন একটি ধর্ম যার আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িদিকগুলোর মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার সামঞ্জস্য বিদ্যমান।
মানবতার উন্নয়ন, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সংহতি এবং নিরাপত্তার জন্য নৈতিকতাবোধ ও আধ্যাত্মিক সাধনার সঙ্গে সঙ্গে পার্থিব বিষয়গুলোর প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনবিধান। এটি মানবজীবনে গ্রহণীয় ও অনুসরণীয় একক ধর্ম। দুনিয়া ও পরকালীন মুক্তির নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। মানবিক সুবিচার ও শান্তি-নিরাপত্তা একমাত্র গ্যারান্টি হলো ইসলামী জীবনব্যবস্থা।
মানবজীবনের সার্বক্ষণিক ও সর্বোতমুখি সমাধানের একটি অতি প্রয়োজনীয় রূপরেখা বাতলে দিয়েছে ইসলাম।
কোরআনেপাকে মহান আল্লাহতাআলা ইসলামকে একমাত্র মনোনিত দ্বীন বা আদর্শ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনিত দ্বীন।
সুরা হাদীদে আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন : (হে মোমেনগণ) ‘তোমরা এমনি শক্তি সৃষ্টি কর যে তোমাদের আস্তাবলগুলোতে ঘোড়া এরূপভাবে বেঁধে রাখবে যেন আল্লাহর দুশমন ও তোমাদের দুশমনগণ তোমাদের নাম শুনে বিচলিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ- শত্রুদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তোমরা বৈষয়িক শক্তি সঞ্চয় কর’।
এই আয়াত হতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, আত্মরক্ষা ও শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য মুসলমানদের সব সময় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। আদিকালে যেহেতু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ঘোড়ার প্রচলনই ছিল বেশি, তাই কোরআনে ঘোড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘আমি লৌহ সৃষ্টি করেছি, এতে প্রভ‚ত লাভও আছে আবার বহু অকল্যাণও এর দ্বারা সাধিত হয়।’
ইসলামী রাষ্ট্র : আল কোরআনের আলোকে সুন্নাহভিত্তিক শেষ নবী মুহাম্মদ (স.) সংগঠিত এবং পরিচালিত আদর্শবাদী রাষ্ট্রই ইসলামী রাষ্ট্র। এরূপ রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক মুসলমান না হলেও তা হবে ইসলামী রাষ্ট্র। মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলামী রাষ্ট্র এক নয়।
কোন রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক এমন কি সকল নাগররিক মুসলমান হলেও সে রাষ্ট্র ইসলামী রাষ্ট্র নাও হতে পারে। তবে এরূপ রাষ্ট্রকে অবশ্যই মুসলিম রাষ্ট্র বলা যেতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্র অবশ্যই আদর্শভিত্তিক ও আদর্শবাদী রাষ্ট্র।
এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আদর্শের ওপর। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সেই আদর্শের বাস্তব প্রতিষ্ঠা ও রূপায়ণ এবং বৈদেশিক ক্ষেত্রে সেই আদর্শের পুক্মখানুপুক্মখ অনুসরণই এর একমাত্র পরিচয়।
ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা : ইসলামী রাষ্ট্রে নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু বৈদেশিক আক্রমণের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ দিক থেকে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক অনৈসলামিক বিশ্বে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ধারণা ভিন্ন।
এর জন্য উন্নত দেশগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত সৈন্য বাহিনীসহ নানান ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়টি একটু ভিন্ন। এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও ভিন্ন প্রকৃতির। সত্যি কথা বলতে কি, ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তার আদর্শিক আঙ্গিকে পরিকল্পিত।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র। মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে গঠিত এখানকার সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ও জনগণ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। ইসলামী রাষ্ট্রে কিভাবে নিরাপদ থাকবে, এর নিরাপত্তা কিভাবে বিধান করতে হবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ও মহানবী (স.)-এর হাদীসে। আর বাইরের ইসলামী রাষ্ট্রে সমাজ কিভাবে নিরাপদ থাকবে, এর নিরাপত্তা কিভাবে বিধান করতে হবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও মহানবী (স.)-এর হাদীসে।
আর বাইরের শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশনাও আছে ইসলামে। অন্যায়ের শিকার হয়ে মুসলমানের মান-ইজ্জত, ধন-সম্পদ এবং রক্ত যাতে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নিপতিত না হয়, সে জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যেমন মুসলমানদের ব্যাপারে উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই।
প্রত্যেক মুসলমানের মান, ইজ্জত, ধন-সম্পদ ও রক্ত অন্য মুসলমানের ওপর হারাম (-মুসলিম)।
অর্থাৎ সমাজ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কাজকে নবীজি কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন, তেমনি অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি কথা ও কাজ দ্বারা কারো এতোটুকুও ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বলেছেন, সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলমান যে তার জিহবা ও হাত দ্বারা অন্যকে নিরাপত্তা দান করে।
এএস





