রমজানুল মোবারক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতের এক বিস্তৃত সামিয়ানা। রোজাদার মুমিনদের অপূর্ব শান্তিময় রহমতে আচ্ছাদিত করে রমজান। এই রহমতের আচ্ছাদনে নিজেদের আমরা যত বেশি ঢেকে রাখতে পারব ততই যেন নিরাপদ। নিরাপত্তাহীনতার কঠিন মুহূর্তে মানুষ যেমন একটু নিরাপত্তার জন্য হাহাকার করে। সামান্য খড়কুটুকেও অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরে রমজানও যেন আমরা গোনাহগারদের জন্য এক বিরাট আশ্রয়, বড় অবলম্বন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ। যতক্ষণ না রোজাদার নিজেই সে ঢাল ফাটিয়ে ফেলে। রমজানের রোজাকে তাই দুর্ভেদ্য মজবুত ঢাল হিসেবেই নিতে হবে। ধারণ করতে হবে। এর আড়ালে নিজেদের নিরাপদ করে রাখতে হবে। তবে এর জন্য রোজা বা সাওম নামক ঢালটির সংরক্ষণ তো অবশ্যই করতে হবে। রোজা বা সাওম নামক ঢালটি যেন ফেটে না যায় সেদিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।

রমজানের ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে তাতো আর অন্য কোনো মাস সম্পর্কেই বলা হয়নি। এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো পড়ে আমরা অন্য রকম এক জগতের সন্ধান পাই। রমজানের স্বতন্ত্র, স্বকীয়তা ও অনন্যতার সন্ধান পাই।

একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজানের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্টু জিনদের শৃংখলাবদ্ধ করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। এর একটি দরজাও তখন আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণকামী অগ্রসর হও। হে পাপাশক্ত বিরত হও। (তিরমিজি ১/১৪৭) রমজানকে ঘিরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কত বিশেষ আয়োজন! এটা কি আর অন্য মাসে হয়? মোটেই না। আসলে রমজান হচ্ছে সব মাসের সেরা। সব দিক থেকেই সেরা।

রহমত, মাগফিরাত, নাজাত, শান্তি, শৃংখলা, নিরাপত্তা- সবদিক বিবেচনায়ই সেরা মাস রমজান। এমন আরেকটি মাস নেই। এটা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এ মাসের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। সদ্ব্যবহার করতে হবে। সেরা ও শ্রেষ্ঠ মাসের সংস্পর্শে নিজেরাও সেরা ও শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠতে হবে। সৌভাগ্য অর্জনের মাস রমজান। তাবৎ কল্যাণ, মঙ্গল, প্রভূত সৌভাগ্য এ মাসে মুমিনদের প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। ধন্য, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তারাই যারা এই হাতছানিতে সাড়া দিয়ে নিজেদের জীবনকে সৌভাগ্য দিয়ে কানায় কানায় ভরে তুলতে সক্ষম হয়।

রমজানের দিনের রোজা রাতের তারাবি, সালাতুল লাইল, তাহাজ্জুদ, দিবারাত্রির কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আজকার দুরুদ, তাওবা ইস্তিগফার- সবই সৌভাগ্যের সোপান। এই স্বর্ণ সোপান বেয়ে সফলতার স্বর্ণ শিখরে, সর্বোচ্চ জান্নাত, জান্নাতুল ফেরদৌসে পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেক মুমিনের রমজানের চূড়ান্ত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যচুত হওয়া হবে চরম বোকামি।

বুদ্ধি ও জ্ঞানের ঢেঁকি হয়েও যদি আমরা এখানে বোকামি করি তাহলে সেটা মারাত্মক আক্ষেপের বিষয়ই হবে। রমজানের সাওম বা রোজার সামিয়ানার শান্তি, নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সমর্পিত না হয়ে রমজান পরিপন্থী, সাওম পরিপন্থী কাজ করে অশান্তি, বিশৃংখলা নিরাপত্তাহীনতায় তিলে তিলে খতম হলে সেটা যে আমাদের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় হবে তা বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে না। নীতিহীন, চরিত্রহীন, বিশৃংখল অশান্ত বর্তমান বিশ্বে রমজানের রহমত সামিয়ানা খুবই প্রয়োজনীয়, শান্তি-নিরাপত্তাকামী আপামর মানুষ এই রমজানের সামিয়ানা তলে স্বস্তিতে থাকতে চায়। কিন্তু এই রহমতের সামিয়ানার তলে কিভাবে যে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হয় সে জ্ঞানইবা ক’জনের আছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কালোত্তীর্ণ বাণী হাদিসগুলোতে সে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সে সব হাদিসগুলো আমাদের পড়তে ও বুঝতে হবে। এবারের রমজান বিশ্ব মুমিন বরং বিশ্ব মানবতার জন্য শান্তি, শৃংখলা ও কল্যাণের সামিয়ানা হয়ে উঠুক- মহান আল্লাহর দরবারে এই মুনাজাত।

ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ