পবিত্র হজব্রত পালনের জন্যে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি। গত ৪ আগস্ট হজ ফ্লাইট শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

শনিবারও (০৬ আগস্ট) অনেকের ফ্লাইট শিডিউল রয়েছে। তাই আগে থেকেই হজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন তারা। শুক্রবার (০৫ আগস্ট) গভীর রাতে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ হজ যাত্রী সেখানে অবস্থান করছেন।
সবার চোখে ঘুমের আচ্ছন্নতা থাকলেও হজে যাওয়ার ঘোরে জেগে বসেই সময় কাটাচ্ছেন তারা। লাগেজ পাশে নিয়ে বসে আছেন, অনেকে নামাজ ‍‌আদায় করছেন। কেউ আবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার।

বগুড়া থেকে স্ত্রীকে নিয়ে হজব্রত পালনে যাচ্ছেন তবিবর রহমান। বললেন, রাত ১২টার দিকে হজ ক্যাম্পে এসেছি। ফ্লাইট শনিবার দুপুর দেড়টায়।
‘সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগে ঘুমানোর সুযোগ নেই। কখন এখান থেকে ইমিগ্রেশন হবে বাস ছেড়ে যাবে এসব কিছু ভেবেই আর ঘুম হবে না।’

নওগাঁর মোতাহার হোসেন বলেন, যারা বাংলাদেশ বিমানে যাচ্ছেন। তাদের ইমিগ্রেশন হজ ক্যাম্পই করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে গিয়ে ইমিগ্রেশনের জন্যে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না।
‘লাগেজ নিয়ে অপেক্ষায় আছি কখন ইমিগ্রেশন হবে,’ যোগ করেন টাঙ্গাইলের শফিকুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, হজ ক্যাম্পে মুসুল্লিদের অভ্যর্থনা জানানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করছেন রোভার স্কাউটরা।

৫০ জনের একটি দল তিন শিফটে ভাগ হয়ে এখানে দায়িত্ব পালন করছে। রোভার স্কাউটের এক সদস্য বলেন, আমরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও হজযাত্রীদের বাসে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকি।
হজ ক্যাম্পে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আব্দুর রশিদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি হজ যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখভাল করছি।

ইসলামের পঞ্চমস স্তম্ভ হজ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজব্রত পালন করা ফরজ। আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজের জন্য নির্ধরিত সময়। তাই প্রতি বছর বাংলাদেশের মুসলমানরাও সৌদি আরব গমন করেন হজব্রত পালনের উদ্দেশে।

এমএনজে