রমজানে শিশুদের জন্য উপযোগী ৫টি সহজ ও মাসুনন দোয়া নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ইফতারের দোয়া
রমজানের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হলো ইফতার। এ সময় দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় প্রত্যাখ্যাত হয় না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৩) শিশুদের ইফতারের সময় নিচের ছোট্ট দোয়াটি শেখানো যেতে পারে-
আরবি: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি। (আবু দাউদ: ২৩৫০)
এক্ষেত্রে আবু দাউদের ২৩৫৭ নম্বর দোয়াটিও শেখানো যেতে পারে-
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে।
২. ঘুমের আগের দোয়া
শিশুদের প্রতিদিন ঘুমের আগে আল্লাহর স্মরণে অভ্যস্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে তাদের মধ্যে এক ধরণের আধ্যাত্মিক নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়।
আরবি: اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার নামে আমি শয়ন করছি এবং আপনারই অনুগ্রহে পুনরায় জাগ্রত হবো। (বুখারি: ৬৩২৪)
৩. খাবার শুরুর দোয়া
খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া ইসলামের অন্যতম মৌলিক আদব। শিশুদের এই ছোট্ট শব্দটির মাধ্যমেই দোয়ার গুরুত্ব বোঝানো শুরু করা যায়।
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি।
হাদিসে নির্দেশ এসেছে ডান হাতে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার খেতে। (সহিহ বুখারি: ৫৩৭৬)
৪. জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া
রমজান যেহেতু শিক্ষা ও কোরআন নাজিলের মাস, তাই শিশুদের পড়াশোনায় বরকতের জন্য এই দোয়াটি শেখানো অত্যন্ত কার্যকর।
আরবি: رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: রাব্বি জিদনি ইলমা।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (সুরা ত্বহা: ১১৪)
৫. ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া
রমজান মাগফিরাত বা ক্ষমার মাস। শিশুদের ছোট ছোট ভুল বা অন্যায়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে উৎসাহিত করলে তাদের মধ্যে সত্যবাদিতা ও নম্রতা তৈরি হয়।
আরবি: رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন। (কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমাপ্রার্থনার এই দোয়াটি এসেছে)।
এছাড়াও শেষ দশকের জন্য লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়াটি বড় শিশুদের শেখানো যেতে পারে-
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩)
আরও পড়ুন: রমজানের বিশেষ ২১ আমল
কেন ছোটবেলা থেকেই দোয়া শিক্ষা জরুরি?
শিশুর মন অত্যন্ত কোমল ও গ্রহণক্ষম। রমজানের বিশেষ আমেজ- সাহরি, ইফতার, তারাবি ও কোরআন তেলাওয়াত তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। এই সময়ে শেখা দোয়াগুলো তাদের সারা জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুকে জোর না করে বরং পারিবারিক আমলের মাধ্যমে গল্পের ছলে দোয়া শেখানো বেশি কার্যকর। অভিভাবকদের উচিত নিজেরা দোয়া পড়ার সময় শিশুদের সাথে রাখা, যাতে তারা বড়দের অনুকরণ করে সহজেই শিখতে পারে।
এমএম