রাসূল (সাঃ) বলেছেন 'পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক'। ইসলামে এ পবিত্রতা অর্জনের বেশ কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে। ক. ওযু, খ. গোসল এবং গ. তায়াম্মুমের মাধ্যমে।

ক. ওযুর ফরজ কাজ ৪টি। ১. মুখ ধৌত করা। ২. উভয় হাত ধৌত করা। ৩. মাথা মাসেহ করা এবং ৪. উভয় পা ধৌত করা ।

খ. গোসলের ফরজ কাজ ৩টি। ১. গড়গড়া সহ কুলি করা। ২. নাকে পানি দেয়া এবং ৩. সমগ্র শরীর ধৌত করা।

গ. তায়াম্মুমের ফরজ কাজ ৩টি। ১. নিয়াত করা। ২. মুখ মাসেহ করা এবং ৩. উভয় হাত মাসেহ করা। (তায়াম্মুম তখনই করা যাবে যখন পানি পাওয়া না যাবে অথবা পানি ব্যবহারে অপারগ হবে)

প্রতিটি কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক দিকের প্রতি তাকান না বরং তাদের অন্তরের দিকেই দেখেন। অর্থাৎ ইসলাম লৌকীক বা প্রদর্শনের জন্য কোন প্রকার ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করে না।

তাহারাত বা পবিত্রতা অর্জনের মধ্যে ওজুর মাধ্যমে বাহ্যিক এবং আত্মীক পরিশুদ্ধতা অর্জন সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাসনুন তরীকায় ওযু করা হলে তা একটি নেক আমলও বটে।এটি অতি সহজ আমল , যে আমল আমরা সকলেই করি এবং দিনে একাধিকবার এ আমল করে থাকি।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে অযুর প্রয়োজন হয়। আমরা যদি একটু খেয়াল করে যথাযথ নিয়মে এই সহজ ও প্রয়োজনীয় আমলটি সম্পাদন করি তাহলে অতি সহজে আমরা পেতে পারি অনেক বড় বড় পুরষ্কার।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত, রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তি ওযু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করে অতঃপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, সে প্রবেশ করতে পারবে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৫

এখানে রাসূল (সঃ) বলেছেন, ওযুর ফরয, সুন্নাত ও আদাবের প্রতি লক্ষ রেখে উত্তমরূপে ওযু করার এবং ওযুর শেষে দুআ পড়ার একটি সহজ আমলের কথা বলেছেন। যা দেহকে সজীব ও পবিত্র করে, মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা দান করে। এই সহজ আমলের জন্যও আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন বলে সু-সংবাদ দেওয়া হয়েছে।

হযরত ওসমান ইবনে আফফান রা. হতে বর্ণিত, রাসূল (সঃ)বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু করে, তার শরীর থেকে, এমনকি নখের নিচ থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৪৫

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত অপর একটি হাদীসে রাসূল (সঃ)বলেছেন, মুসলিম বা মুমিন বান্দা যখন ওযু করে, যখন সে মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে বা পানির শেষ কাতরার সঙ্গে ওই সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে দু চোখ দ্বারা করেছিল।

যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওই সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে হাত দ্বারা করেছিল।

যখন সে দুই পা ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওই সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যার দিকে সে চলেছিল।

এভাবে সে গুনাহ থেকে পাকসাফ হয়ে যায়।-সহীহ মুসলিম হাদীস ২৪৪

রাসূল (সঃ) বলেছেন, সাহাবায়ে কেরামের সামনে হাউযে কাউসারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, মানুষ যেমন তার হাউয থেকে অন্য মানুষকে সরিয়ে দেয় তেমনি আমিও সেদিন কিছু মানুষকে সরিয়ে দিব।

সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, সেদিন কি আপনি আমাদের চিনতে পারবেন? রাসূল (সঃ)বল্লেন, বল তো, কারো যদি হাতে ও পায়ে সফেদ চিহ্ন বিশিষ্ট কিছু ঘোড়া থাকে এবং সেগুলোকে অসংখ্য কালো রংয়ের ঘোড়ার মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে সেই ব্যক্তি কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না?

সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ, পারবে। ইয়া রাসূলুল্লাহ! রাসূল (সঃ) তখন বল্লেন, তেমনি তোমাদেরও এমন কিছু চিহ্ন হবে যা অন্য কোনো উম্মতের হবে না। কিয়ামতের দিন তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও ওযুর কারণে ঝলমল করতে থাকবে।’-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৪৬-২৪৯

পরিশেষে বলা যায়, আমরা প্রতিদিই নামাজসহ বিবিধ ইবাদতের জন্য একাধিকবার ওযু করে থাকি। আর এ ওযুর সময় যদি যথাযথ ভাবে খেয়াল করে প্রতিটি কাজ করা যায় তাহলে গুনাহ মাপের পাশাপাশি অশেষ রহমতের অংশিদার হতে পারবো ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদেরকে তার প্রিয় বান্দাহ হিসেবে কবুল করুন।

ঢাকা, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর