সুন্দরবনের সাগরপাড়ে আলোরকোলের দুবলারচরে বুধবার শুরু হচ্ছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনদিনব্যাপী রাসমেলা। রাসমেলাকে ঘিরে তীর্থযাত্রী বেশে চোরাশিকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অপরদিকে তাদের প্রতিরোধে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। মেলা সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দি গ্রামের শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে আলোরকোলের দুবলারচরে পূজা পার্বণাদি শুরু করেন। তখন থেকে আস্তে আস্তে মেলাটির কলেবর বৃদ্ধি পায়।কালের আবর্তে মেলাটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আবার অনেকে মেলাটিকে মগদের মেলা বলে থাকেন। কিন্তু তার সপক্ষে তেমন কোনো জোরালো যুক্তি ও ইতিহাস মেলে না।
প্রতিবছর অগ্রহায়ণের শুক্লাদ্বাদশী তিথিতে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কামনা-বাসনা পূরণের লক্ষ্যে সুন্দরবনের শেষ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের তীরে দুবলারচরে হাজির হন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র স্নান করে পুতঃপবিত্র হয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন।
কয়রা উপজেলার মটবাড়ি গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ অশ্বিনী কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমি কমপক্ষে ৩০ বার দুবলারচরের রাসমেলায় গেছি। অগ্রহায়ণ মাস এলে গঙ্গাস্নানে যেতে চায় মনটা। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর যেতে পারি না।’ এই আফসোস করে কেঁদে ফেলেন তিনি।
মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মেলা আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের বন সংরক্ষক (খুলনা সার্কেল) কার্ত্তিক চন্দ্র সরকার বলেন, ইতোমধ্যে মেলা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে তার দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তীর্থযাত্রীরা যাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বিঘ্নে গিয়ে ফিরে আসেত পারেন, তার প্রতি সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। মেলা চলাকালীন যেন চোরা শিকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি না পায়, সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মেহেদী মাসুদ বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ছাড়া জনবল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য যানবাহন বাড়ানো হয়েছে। মেলার পাশে আলোরকোলে কোস্টগার্ডের স্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। তারাও সার্বক্ষণিক টহল দেবে, যাতে তীর্থযাত্রীদের কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।
বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। তীর্থযাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। ইতোমধ্যে চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা অপকর্ম করতে না পারে।
কেএইচ





