আধুনিক শিক্ষিত পরিবারসমূহে যে ভাঙ্গন পরিলক্ষিত হয় তার বেশিরভাগই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার বলি হচ্ছে সংসার, সন্তানদের ভাবাবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতচিহ্ন নিয়েই তাদের বড় হতে হচ্ছে।
সমাজ সভ্যতার সুতিকাগার পরিবারকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে মানুষের পছন্দ অপছন্দের ওপর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সমাজের উঁচু স্তর থেকে শুরু করে নিম্নতম স্তরের অনেকেই ব্যভিচারে লিপ্ত। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সর্বস্তরের মানুষ। এগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় এ থেকে পথভ্রষ্টও হচ্ছে কিছুসংখ্যক মানুষ।
ইসলাম ব্যভিচারকে সুস্পষ্ট হারাম ও জঘন্য অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করেছে। এই অপরাধের কঠিন শাস্তির বিধানও রয়েছে ইসলামে।
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল ইসরার ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীন বলেন, ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়োও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’
সূরা আল আরাফ এর ৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “বলুন আমার পালনকর্তা নিশ্চিতভাবে ঐ সমস্ত কাজকে হারাম বা নিষিদ্ধ করেছেন যেগুলো অশ্লীল ও লজ্জাকর তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন।” একইভাবে সূরা বনি ইসরাইলের ৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল ও মন্দ কাজ যা আরো অন্যায় কাজের পথ প্রদর্শক।”
জ্বিনা : যদি কোনও ব্যক্তি বিয়ের পূর্বে অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে সংসর্গ স্থাপন করে তাহলে তাকে জ্বিনা বলা হয়, ব্যভিচারের ন্যায় জ্বিনাও দু’প্রকার :
১. অবিবাহিত কোনও ব্যক্তি যদি অবিবাহিত অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে জ্বিনা হয়।
২. যদি কোনও অবিবাহিত ব্যক্তি কোনও বিবাহিত ব্যক্তির সাথে মিলিত হয় তাহলেও জ্বিনা হয়। এক্ষেত্রে অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য হয় জ্বিনা এবং বিবাহিত ব্যক্তির জন্য ব্যভিচার।
ব্যভিচারে কেন জড়িয়ে পড়ছে মানুষ? তার কারণ হিসেবে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করছেন।
নৈতিকতার অবক্ষয়- পর্দার লংঘন- অশালীন পোশাক-আশাক- ফোনে অতিরিক্ত কথাবার্তা- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করা- প্রযুক্তির অপব্যবহার- সামাজিক অবক্ষয়- প্রকৃত শিক্ষার অভাব- পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতি- অভিভাকের উদাসীনতা- দুর্নীতি ও অনৈতিকতা- সম্পদের মোহ- পদোন্নতি।
আজ রাস্তা ঘাট, শহর গ্রাম, গাড়ি ঘোড়া, স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা মক্তব কোথাও মেয়েদের নিরাপত্তা নেই। তারা যদি নিরাপদ না হয় তাহলে আমরা মা পাবো কোথায়? মা’ই যদি না থাকে দুনিয়াতে, এই দেশকে ধারণ করবে কে?
ইসলামে বিয়েকে সহজ এবং জ্বিনা-ব্যভিচারকে কঠিন করা হয়েছে। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের জন্য এখানে অনেক দিকনির্দেশনাও রয়েছে। এই পছন্দকে আকস্মিকতা বা হঠাৎ ভালো লাগা কিংবা ভাবাবেগ ও যৌনতা তাড়িত প্রেম ভালোবাসার উপর ছেড়ে দেয়া যায় না।
সামাজিক ব্যাধি ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি রোধের জন্যও এই ধরনের নৈতিক শিক্ষা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন। ইন্টারনেট ও প্রচার মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ব্লু ফ্লিম, যৌনতা এবং পার্ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ক্লাবে অশ্লীল আচার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের শ্রেণি কক্ষে যৌন শিক্ষা প্রদান ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সামনে উলঙ্গ নারীর প্রদর্শনী করে তা হতে পারে না। এটা নারীর প্রতি আমাদের মা’দের প্রতি অমর্যাদা।
সহশিক্ষা ও মেয়েদের শ্রেণিকক্ষে পুরুষ শিক্ষকদের শিক্ষাদান কার্যক্রম কমিয়ে এ কাজে যথাসম্ভব মেয়েদের ব্যবহার করা হলে পরিবেশ আরো ভাল হতে পারে। প্রয়োজন ধর্মীয় ও মৌলিক শিক্ষা।
এএস





