লাইলাতুল ক্বদর
লাইলাতুল ক্বদর শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ ক্বদরের রাত বা মহিমান্বিত রজনী। বাংলাদেশে আমরা এ রজনীকে শবে ক্বদরও বলে থাকি।
পবিত্র কুরআনে ক্বদর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা রয়েছে। এই সূরায় মহান আল্লাহ লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বিস্তারিত বলে দিয়েছেন। লাইলাতুল ক্বদর কি? এ রাতের মর্যাদা কত? কেন এ মর্যাদা? এসব বিষয়গুলো এখানে বলে দেয়া আছে।

লাইলাতুল ক্বদর কি?
যে রজনীতে পবিত্র কুরআন শরীফ প্রথম নাযিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় অথবা যে রজনীতে কুরআন নাযিল করা হয়। সূরা ক্বদরে বলা হয়েছে, "আমি ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিল করেছি"। আবার সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, "রমযান মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে"। আবার সূরা দুখানে বলা হয়েছে "অবশ্যই আমি একে একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি"।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) এর মতে ক্বদরের রাতে পূর্ণাঙ্গ কুরআন ফেরেস্তাদের নিকট দেয়া হয়েছে অতপর ২৩ বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী রাসূল (স:) এর নিকট পৌছে দেয়া হয়েছে। তবে ক্বদরের রাতেই কুরআন নাযিলের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা:
লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা সম্পর্কে সূরা ক্বদরেই আল্লাহ বলেছেন, " ক্বদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম"।
এখানে হাজার মাস বলতে ৮৩ বছর ৩ মাসকে বোঝানো হয়নি। বরং এরাতের মর্যাদার আধিক্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এরাতের আমলের বিপুল ফযিলতের কথা রাসূল (স:) এর হাদীসে থেকে জানাযায়।

সহীহ বুখারী এবং মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূল (স:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে ঈমানের সাথে এবং আত্মজিজ্ঞাসার সাথে ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে তার পেছনের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে"।

সূরা ক্বদরেই বলা হয়েছে, " সন্ধ্যা থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত সমস্ত রাত শান্তিপূর্ণ" আর এ রাতে আল্লাহ ফেরেস্তাদের তার নির্দেশনা সহ প্রেরণ করেন।

লাইলাতুল ক্বদর কোন রাত?
মহিমান্বিত ক্বদরের রাত কোনটি এ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া যায়। তবে ক্বদরের রাত রমযান মাসেই এ বিষয়ে কারও মত পার্থক্য দেখা যায় না। মুসনাদে আহমাদে হযরত উবাদাতা ইবনে সামেত (রা:) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (স:) বলেছেন, " ক্বদরের রাত রয়েছে রমযানের শেষ ১০ রাতের মধ্যে। যে ব্যক্তি আত্মজিজ্ঞাসার সাথে এসব রাতে ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন''।

হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (স:) লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলেছেন, " সেটি সাতাশের অথবা ঊনত্রিশের রাত। (আবু দাউদ)। মুসনাদে আহমাদের হযরত আবু হুরায়রা (রা:) অন্য একটি রেওয়াতে বলা হয়েছে, সেটি রমযানের শেষ রাত।

হযরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেছেন, "রাসূল (স:) বলেছেন, ক্বদরের রাতকে রমযানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতে তালাশ কর"। (বুখারি, মুসলিম, আহমাদ, তিরমিযী)
হযরত আবু যার (রা:) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, হযরত ওমর (রা:), হযরত হুযাইফা (রা:) এবং রাসূল (স:) এর বহু সাহাবার মনে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না যে, এটি রমযানের ২৭তম রাত। (ইবনে আবী শাইবা)

অন্য একটি যুক্তিকে উপস্থাপন করা হয়েছে এভাবে যে, সূরা ক্বদরে 'লাইলাতুল ক্বদর' শব্দটি ৩ বার এসেছে। আর 'লাইলাতুল ক্বদর' লিখতে আরবীতে ৯টি হরফ লাগে। এক্ষেত্রে (৩ X ৯) = ২৭ অতএব ২৭ তারিখই লাইলাতুল ক্বদর।

পবিত্র ক্বদরের রাতের মর্যাদা হচ্ছে আল কুরআন নাযিল হওয়ার কারণেই। যদি এ রাতে বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ কুরআন নাযিল করা না হত তাহলে এ রাতটিও অন্যান্য রাতের মতই হত।

অতএব আমাদের উচিত ক্বদরের রাতের ফজিলত পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করে আমাদের আমলকে আরও শানিত করা। যে কুরআনের জন্য ক্বদরের রাতের মর্যাদা সেই পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাকে ধারণ করে ইহলৌকিক এবং পরলৌকিক সফলতা অর্জণ করা।