সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক, মানবজাতিসহ বিশ্বজগতের সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, সব সৃষ্টির জন্য একমাত্র আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরঙ্কুশ কর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য একমাত্র জীবনব্যবস্থা ‘ইসলাম’ প্রদান করেছেন এবং তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা:-এর কাছে আল কুরআন নাজিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর আইন-বিধানসহ একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা ইসলামের যারা অনুসারী বা আনুগত্যকারী তারাই হলো ‘মুসলিম’। কাজেই ইসলাম হলো সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর আইন-বিধান সংবলিত পরিপূর্ণ একমাত্র জীবনব্যবস্থা। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক বিশ্বজগতের সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, রক্ষাকর্তা, জীবন ও মৃত্যুদাতা, আমাদের কর্মফল প্রদানকর্তা।

আল্লাহর সৃষ্ট খাদ্য, পানীয়, আলো, বাতাস, আগুন ভোগ করেই আমরা জীবন ধারণ করছি এবং আল্লাহরই দয়ার দান আমাদের কর্মশক্তি, বাকশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, মেধাবুদ্ধি তাঁরই অনুগ্রহে ব্যবহার করেই আমরা যে যার পেশায় নিয়োজিত হয়ে উন্নতি সাধন করছি; একদিন আমরা আবার মৃত্যুবরণ করতে এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য হবো।

যে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করলেন, খাদ্য, পানীয়, আগুন, আলো, বাতাস, মাটি ইত্যাদি সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের রিজিকের ব্যবস্থা করলেন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্ত সঞ্চালনের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করে দিলেন আর সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর আইন-বিধান সংবলিত পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করে দিলেন ‘ইসলাম’; সেই আমরা ‘মানুষ’ আল্লাহর সৃষ্টি হয়ে আল্লাহর দেয়া রিজিক ভোগ করে তাঁর দয়ার দান ব্যবহার করে জীবন ধারণ ও যাপন করছি, আর আল্লাহর নির্দেশ মেনে তাঁর প্রদত্ত ব্যবস্থা ও তাঁর আইন-বিধানের আনুগত্য করার মাধ্যমে তাঁর দাসত্ব করব, এটাই তো স্বাভাবিক।

কিন্তু আমরা তা না করে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা মানুষকে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের মালিক স্বীকার করে মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ গণ্য করে মানবরচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য করে দাসত্ব করছি আমাদের মতো মানুষের। আল্লাহর চরম অকৃতজ্ঞতা অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কুফরি এবং আল্লাহর সাথে শিরক করার এ অপরাধ কি ক্ষমার যোগ্য হতে পারে?

এ অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয় বিধায়; আল্লাহর শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না বলে জানিয়েও দিয়েছেন এবং আল্লাহর অবাধ্যতা অর্থাৎ তাঁর সাথে কুফরি ও শিরক করার অপরাধের শাস্তি হিসেবে দুনিয়াতে আল্লাহর আজাব-গজবে জাতির মানুষকে দলে দলে বিভক্ত করে সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের মাধ্যমে পরস্পরকে শিরকের স্বাদ আস্বাদন করাবেন, ওপরের ও নিচের দিক থেকে আজাব-গজব দেবেন। ফলে দুনিয়াতে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে জীবন কাটাতে হবে এবং আখিরাতের স্থায়ী জীবনে জান্নাত হারাম করে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে জাতির মানুষ দলে দলে বিভক্ত হয়ে সঙ্ঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত, এটা আল্লাহর আজাব-গজবেরই অংশ।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আমরা দেশের মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবরচিত ব্যবস্থা ‘গণতন্ত্র’-এর মাধ্যমে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে নেয়ায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের সাথে শিরক ও আল্লাহর চরম অবাধ্যতা করে ক্ষমার অযোগ্য মহা পাপে নিমজ্জিত হয়ে জাতিগতভাবে ভয়াবহ কঠিন বিপদ ও মহাক্ষতির মধ্যে অবস্থান করছি।

যার কারণে আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে সমস্যা ও পাপাচার ক্রমে শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে, তা না হলে আল্লাহর চরম অবাধ্যতা এবং তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধে দুনিয়াতে আল্লাহর আজাব-গজবের শিকার হয়ে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে জীবন কাটানোর পর আখেরাতের জীবনেও চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে, যেখানে সাহায্য বা রক্ষা করার কেউ থাকবে না।

এই মহাক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সবাইকে অসীম দাতা ও দয়ালু এবং ক্ষমাশীল আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বকে অস্বীকার, অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহকেই সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের মালিক স্বীকার করে তাঁর প্রদত্ত ব্যবস্থা ‘ইসলাম’এর আইন-বিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার জন্য ‘আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’ এবং নিজের অর্থ ও সময় ব্যয়ের মাধ্যমে জাতির অন্যান্য সবাইকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আন্তরিকভাবে চূড়ান্ত চেষ্টা করতে হবে সাথে সাথে ধৈর্য ও সালাতের (নামাজ) মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে এবং সর্ব প্রকার বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজে উত্তম ধৈর্য ও ক্ষমার নীতিতে অটল থাকতে হবে।

তাহলেই মিলবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ক্ষমা, মিলবে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা (খিলাফত) এবং আখেরাতের স্থায়ী জীবনে চিরসুখের স্থান জান্নাত। কাজেই, আমরা যদি সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব অধিকার নিয়ে দুনিয়াতে শান্তি, কল্যাণ ও আখেরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে যেতে চাই, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন-বিধানের আনুগত্য করার মাধ্যমে আল্লাহরই দাসত্ব করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করতেই হবে। শান্তি, কল্যাণ এবং জান্নাত লাভের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

তবে, মানবরচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচনে অংশগগ্রহণ করতে হলে আল্লাহর সাথে কুফর ও শিরক করেই করতে হয় বিধায়; গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়। আবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকাকালীন সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা কুরআন সুন্নাহবিরোধী অপতৎপরতা বিধায় সশস্ত্র সংগ্রাম বোমাবাজি করে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করাও সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়।

আল্লাহর রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আল্লাহকেই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরঙ্কুশ কর্তা অর্থাৎ একমাত্র ‘রব’ স্বীকার করে মেনে নিয়ে ঈমানের ঘোষণা দিয়ে ঈমান আনা, একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব তাঁরই আইন-বিধানের আনুগত্য এবং তাঁরই উপাসনা করার অঙ্গীকার করা এবং এর বাস্তবায়নের আল্লাহর রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণের অঙ্গীকার করা এই তিনটি মহা সত্যের দাওয়াত দানের মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির অন্যান্য সবাইকে এই দাওয়াত দানে নিজের অর্থ ও সময়ের চূড়ান্ত কোরবানি করা এবং দাওয়াত কবুলকারীদের নিয়ে ‘ইসলামী সমাজ গঠন’ আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকাই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার একমাত্র পদ্ধতি।

তথাকথিত কিছু পণ্ডিত ব্যক্তি এই বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন যে, ইসলামেও ‘গণতন্ত্র’ আছে। তাদের এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বলছি ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি ‘গণ’ এবং ‘তন্ত্র’ এ দু’টি শব্দ মিলে হয়েছে গণতন্ত্র। ‘গণ অর্থ ‘মানুষ’ এবং ‘তন্ত্র’ অর্থ ‘আইন’। অতএব ‘গণতন্ত্র’ অর্থ হচ্ছে ‘মানুষের আইন’। গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটা ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থায় মানুষের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে মানুষের মনগড়া আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনার জন্য সরকার গঠন করা হয়।

গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনায় ‘জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস’ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত ‘সংসদ সদস্যদের আইনদাতা-বিধানদাতা’ এবং ‘জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মনোনীত বা নির্বাচিত ব্যক্তি দ্বারা রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়, যাদেরকে শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মালিক’ স্বীকার করা হয়। গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানা হয় জনগণকে, আইনদাতা স্বীকার করা হয় সংসদ সদস্যদের এবং মানবরচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতানেত্রী বা সরকারকে কর্তৃত্বের মালিক মানা হয়। জনগণ মানুষ, জনগণের প্রতিনিধি সংসদ সদস্যরা এবং সরকারও মানুষ।

অথচ মানুষ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হওয়ার কোনো যোগ্যতাই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ মানুষকে দান করেননি। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হওয়ার জন্য চিরন্তন ও চিরস্থায়ী সত্তা হওয়া অপরিহার্য। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই একমাত্র চিরন্তন ও চিরস্থায়ী সত্তা, মানুষ নয়। কাজেই, ইসলামে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর; মানুষের নয় অর্থাৎ আল্লাহই হলেন একমাত্র ‘রব’।

ফলে দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর; অন্য কারো নয় অর্থাৎ আল্লাহই হলেন একমাত্র ‘ইলাহ’-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী একমাত্র সত্তা। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের স্বীকার করলে মানুষকে ‘রব’ মানা হয় এবং মানবরচিত ব্যবস্থা ও মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য স্বীকার করলে মানুষের দাসত্ব করা হয়, মানুষকে ‘ইলাহ’ মানা হয়; যা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে শিরক ও কুফরি।

এমতাবস্থায় গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের মিল বা ইসলামের মধ্যে গণতন্ত্র আছে এ কথা যারা প্রচার করেন তারা কে বা কারা তা পাঠক মাত্রই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করছি।

বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে যা কিছু ঘটছে এ ব্যাপারে শুধু এ কথাই বলা যায় যে, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবনব্যবস্থা ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত না থাকায় দুর্ভোগ ও অশান্তির জন্য যা ঘটার তাই ঘটছে।

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত হলেই জাতীয় জীবনের সব সমস্যার সমাধানসহ সব মানুষের সর্ব প্রকার মৌলিক অধিকারগুলো আদায় ও সংরক্ষণ হবে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে, শোষণমুক্ত অর্থনীতি এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

একমাত্র তখনই জাতি- ধম- বর্ণ- গোত্র ও দলমত নির্বিশেষে জাতির সব মানুষের জীবনেই সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দুনিয়াতে কল্যাণ ও শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দাসত্ব করা উচিত, কল্যাণ ও শান্তি লাভের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

দেশের জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিমান, শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের নারী, পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজের এবং জাতির কল্যাণে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।

 

লেখক :

আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল

প্রবন্ধকার