আবারো হাফেজে কুরআনদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিল তুরস্ক। দেশটির ট্রাবজোন প্রদেশের দারুল ইফতা এই সম্মাননার আয়োজন করে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক প্রধান প্রফেসর ড. আলি এরবাশের উপস্থিতিতে অন্তত ৭২ জন হাফেজে কুরআনকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। খবর তুর্কি নিউজ এজেন্সির।

এ সময় হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলি এরবাশ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কুরআনে কারিম শেখে এবং শেখায় সে সর্বোত্তম। একজন হাফেজে কুরআন আল্লাহর কাছে প্রশংসিত আর কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান একটি উত্তম উদযাপন।’

কুরআন ও হাদিসকে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. আলি এরবাশ বলেন, ‘তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে গেলাম; যতক্ষণ তা আঁকড়ে ধরে রাখবে ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না’।

তিনি বলেন, ইবনে সিনা, আকা শামসুদ্দিনের মতো মুসলিম মনীষীরা শুরুতে একজন হাফেজে কুরআন ছিলেন। তারা প্রথমে কুরআন হিফজ করেছেন তারপর সাধারণ পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করেছেন।’

পবিত্র কুরআনকে মহাবিস্ময় আখ্যায়িত করে এ ইসলামী স্কলার বলেন, ‘দুনিয়ার সবচে বড় মুজিজা (অলৌকিক বিষয়) হলো পবিত্র কুরআন। আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করার জন্য। এটি আল্লাহর রাসূল সা:-এরও বড় মুজিজা এবং ইসলামের প্রধান উৎস।’

তুর্কি ধর্ম বিষয়ক অধিদফতর ২০২০ সালে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন হিফজ ও ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে। সেই প্রকল্পের অধীনেই ৭২ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করলো।

তুর্কি নিউজ এজেন্সি জানায়, ২০২১ সালে তুরস্কে ১১ হাজার ৭৭৩ জন শিশু-কিশোর পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে এবং তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিফজ সনদ প্রদান করা হয়।

এদিকে খুব শিগশির-ই দেশটি তার প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করবে। এ পর্যন্ত গোটা তুরস্কে অসংখ্য মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিছুদিন আগের করা এক সার্ভেতে দেখা যায়- দেশটিতে মসজিদ সংখ্যা অন্তত ৯০ হাজার। আর মসজিদগুলোতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কুরআন হিফজ ও কুরআনের উচ্চতর শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। তথ্যসূত্র : তুর্কি নিউজ এজেন্সি।

এবিএস