বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ। যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মানুসারীরা উৎসব উদযাপন করছে। বাংলাদেশেও দিবসটি মহা ধুমধামে উদযাপন করছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

এদিন বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগুরু তথাগত গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা- জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ সংঘটিত হয়েছিল।

বৌদ্ধধর্মমতে, আজ থেকে দুই হাজার ৫৫৮ বছর আগের আজকের দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ (বুদ্ধত্ব লাভ) ও মহাপরিনির্বাণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিন হয়েছিল বলে এর অন্য নাম দেয়া হয় 'বৈশাখী পূর্ণিমা'।

গৌতম বুদ্ধ বিশ্বের মানুষের দুঃখ-বেদনাকে নিজের দুঃখ বলে হৃদয়ে উপলব্ধি করেন। তিনি জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু- এই চারটির কারণ উদ্ঘাটন এবং মুক্তির লক্ষ্যে নিমগ্ন হন। একপর্যায়ে রাজপ্রাসাদের বিত্ত-বৈভব, সুখ ও স্বজনের মায়া ত্যাগ করে সিদ্ধিলাভের পন্থা অন্বেষণে বেরিয়ে পড়েন অজানার পথে। দীর্ঘ ছয় বছর সাধনার পর গৌতম বুদ্ধ বোধিপ্রাপ্ত হন।

তাই তার অনুসারীরা এই দিনে যেমন আনন্দ করে তেমনি বুদ্ধের মহাপ্রয়ানের কথা স্মরণ করে প্রার্থনা করে এবং তার প্রচারিত বাণী সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

বাংলাদেশে দিনটি সরকারি ছুটি। এ দিনটিকে ঘিরে বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন পরিচালিত শিশুপার্ক দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তারা।

এ উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গতকাল শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আজ রোববার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশান কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ রাজধানীর সবুজবাগের ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে এবং বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে পৃথকভাবে আজ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, মহাসংঘদান, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, সমবেত প্রার্থনা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।

এআর