হজ শুরুর আগেই ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ কোটা নিয়ে বাণিজ্য ও লুটপাট শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হাব সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন মিন্টু।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘হজযাত্রী প্রেরণ ও অব্যবহৃত সরকারি ও বেসরকারি কোটা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করার দাবিতে’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় হজযাত্রী প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে কোটা বণ্টন করছে। শুধু তাই নয় বেসরকারি কোটা থেকেও ঘুষ নিয়ে ২ হাজার কোটা বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ট্রাভেলসকে ১০৩ জনের কোটাসহ অপর একটি ট্রাভেলসকে ১২৩ জনের একটি কোটা বণ্টন করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হাব সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার কারণে দিন দিন হজগমনেচ্ছুদের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ ১ হাজার ৭শ’ ৫৮ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু হজযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অবশেষে আরো ৫ হাজার হাজীকে হজ করার অনুমতি দেয় সৌদি সরকার।

তিনি বলেন, এ বছর যেহেতু ইরান ও সিরিয়া থেকে ৭ লাখ হজযাত্রী হজ করছেন না, তাই এবার সৌদি সরকারের হজ কোটা নিয়ে কোনো সমস্যাও নেই। কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে হজ কোটা নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করছেন। যা হজের পবিত্রতাকে নষ্ট করছে। তাছাড়া এবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে সর্বমোট হজযাত্রীর কোটা রয়েছে ১ লখ ১ হাজার ৭শ’ ৫৮। যা গত বছরও একই ছিলো। এর মধ্যে ১০ হাজার সরকারি ও বেসরকারিভাবে রয়েছে ৯১ হাজার ৭শ’ ৫৮। কিন্তু এ বছর হজ করতে এক লাখ ৪০ হাজার ৯শ’ ৫১ জন হজগমনেচ্ছুক প্রাক নিবন্ধন করেছেন। ফলে কোটার চেয়ে অতিরিক্ত নিবন্ধিত হয়েছে ৪৮ হাজার।

হাব সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব রেজাউল করিম উজ্জল বলেন, আমরা জানি বর্তমানে সরকারি ১০ হাজার কোটা থেকে প্রায় ৫ হাজার ২শ’ জন এবং বেসরকারি কোটায় প্রায় ৫ হাজার জন হজযাত্রীর কোটা অবশিষ্ট আছে। আর এই অবশিষ্ট কোটা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি অসাধু চক্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ দিচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সৌদি এয়ারলাইন্সের ২টি এজেন্সিকে প্রায় ৩০ হাজার হজ টিকেট বরাদ্দ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। যদি তাই হয় তাহলে দেশের এজেন্সিগুলোকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে হজ গমনেচ্ছুকরা সুষ্ঠুভাবে এবার হজ করতে পারবেন না। তাই এ বিষয়টি ‍সুরাহা করতে হাব সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি চান তাহলে এ বছর অতিরিক্ত যে ৪৮ হাজার হজগমনেচ্ছুক নিবন্ধন করেছেন তারাও হজ করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে হাব সমন্বয় পরিষদ। এতে হাব সমন্বয় পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআইএস/ইআর