টঙ্গীতে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার ৫১তম পর্বের এটা হলো প্রথম ধাপ। ইজতেমায় শরিক হতে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমা মাঠে সমবেত হয়েছেন এবং মুসল্লিদের আসা অব্যাহত রয়েছে।

হরতাল উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালে থেকেই মুসল্লিদের বাস, ট্রাক, পিক-আপ, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও নদী পথে টঙ্গীর ইজতেমাস্থলে আসতে দেখা গেছে। পরে মুসল্লিরা নিজ নিজ মালামাল ও ব্যাগ কাধে-পিঠে নিয়ে ইজতেমা মাঠের নির্ধারিত স্থানে (খিত্তায়) অবস্থান নিচ্ছেন।

বুধবার থেকেই ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেন দেশি-বিদেশি মুসল্লীরা। বৃহস্পতিবার বাদ ফজর উপস্থিত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে বয়ান (মোজাকারা বয়ান)। এ বয়ানে আমরা (মুসল্লিরা) কেন এখানে সমবেত হলাম, আমাদের কি কি করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে।

ক্রমবর্ধমান মুসুল্লীদের কথা বিচেনায় রেখে মুসুল্লীদের কষ্ট লাগব করতে এবার বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বে মোট ৩২ জেলার মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন। প্রথম পর্বে অংশ নিবেন ঢাকাসহ ১৭ জেলা। দিতীয় পর্বে অংশ নিবেন ঢাকাসহ ১৬ জেলা। তবে জামাতবদ্ধ তাবলিগ সদস্য ছাড়াও সাধারণ মুসুল্লীদের ইজতেমায় অংশ নিতে বাধা নেই।

গত বছর বিশ্ব ইজতেমার পরই এবার ৩২ জেলার তাবলীগ সদস্য (মুসুল্লী) নিয়ে ইজতেমা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন শহীদ আহসান উল্যাহ মাষ্টার স্টেডিয়ামে পুলিশ সদস্যদের এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. মইনুর রহমান পুলিশ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দেন।

পুলিশের পাশাপশি র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তায় নিযোজিত রয়েছে। ইজতেমা মাঠ ও আশপাশ এলাকায় র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে। স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ইত্যাদি।

মুসল্লিদের পারাপারের জন্য ইজতেমা ময়দানের সংলগ্ন তুরাগ নদীর ওপর আট স্থানে আটটি ভাসমান সেতু স্থাপন করেছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জনিয়েছেন, ইজতেমা এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তায় ১২ হাজার পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ১৭ জেলার মুসল্লীরা খিত্তাওয়ারী যেভাবে অবস্থান নেবেন তা হলো- ১ নম্বর থেকে ৬ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ৭ নম্বর খিত্তায় শেরপুর, ৮ ও ১১ নম্বর খিত্তায় নারায়নগঞ্জ, ৯ নম্বর খিত্তায় নীলফামারী, ১০ নম্বর খিত্তায় সিরাজগঞ্জ, ১২ নম্বর খিত্তায় নাটোর, ১৩ নম্বর খিত্তায় গাইবান্ধা, ১৪ ও ১৫ নম্বর খিত্তায় লক্ষীপুর, ১৬ ও ১৭ নম্বর খিত্তায় সিলেট, ১৮ ও ১৯ নম্বর খিত্তায় চট্টগ্রাম, ২০ নম্বর খিত্তায় নড়াইল, ২১ নম্বর খিত্তায় মাদারীপুর, ২২ ও ২৩ নম্বর খিত্তায় ভোলা, ২৪ নম্বর খিত্তায় মাগুরা, ২৫ নম্বর খিত্তায় পটুয়াখালী, ২৬ নম্বর খিত্তায় ঝালকাঠি এবং ২৭ নম্বর খিত্তায় পঞ্চগড় জেলা।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম জানান, টঙ্গীর ইজতেমাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় ইজতেমা চলাকালে প্রতিদিন তিন পালায় সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক কাজে চারটি এবং হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানে খাবারের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ে আরো ১০টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

গাজীপুরের ১৪ জনসহ বিভিন্ন জেলার ২৪জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওইসব আদালত পরিচালনা করছেন।

এমএম