যুব র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর এম কোরবান আলী।
নর্দান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং যুব উন্নয়ন সংসদ ঢাকার চীফ কো-অর্ডিনেটর কামাল হোসাইনের সঞ্চালনায় র্যালিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইউসুফ আলী, প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিয়ার রহমান, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, যুবনেতা আব্দুস সাত্তার সুমন, রেজাউল করিম, সোহেল রানা মিঠু প্রমুখ।
র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী বলেন, রাসুলের (সা.) সিরাত উদযাপন তখনই স্বার্থক হবে যখন একজন মুসলমান হিসেবে আমরা রাসুলের (সা.) দিকনির্দেশনা সমুহকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারবো। মানুষের মুক্তির জন্য হযরত মুহাম্মদ (স.) যে জীবন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলেন তা সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। আজকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ নানা সংকট অতিক্রম করছে। বিভিন্ন অনিয়মের ফলে দেশের ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা-বাণিজ্য সব শূন্য হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের ফলে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতিতে দেশের মানুষ আজ বিপর্যস্ত। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে রাসুল (সা) এর দেখানো সুমহান আদর্শের দিকে। অন্য কোনো মত বা পথ এদেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, মক্কা-মদিনায় যে আদর্শ প্রিয় রাসূল (সা) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ফল পুরো পৃথিবীবাসী পেয়েছে। আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে মাদক মুক্ত দেশ চান? সন্ত্রাস মুক্ত দেশ চান? রাতের ভোট প্রতিরোধ করতে চান? জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান? তাহলে অবশ্যই আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহর রাসূল (সা) আদর্শের কাছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে মুহাম্মদের (সা) আদর্শকে প্রতিষ্ঠ করতে পারলেই এক নিমিষেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
র্যালি পুর্ব সমাবেশে অন্যান্য বক্তাগণ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ১২ রবিউল আউয়ালের এই দিনেই জন্ম ও ওফাত হয়েছিল। আবার মদিনায় ইসলামী সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনা যে হিজরত, তাও সংঘটিত হয়েছিল এ মাসেই। হযরত মুহাম্মদ (সা) তার রিসালাতের দায়িত্ব সম্পন্ন করেন দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনে। তাঁর জীবনাদর্শে রয়েছে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। ‘সিরাতুন্নবী (সা) অর্থাৎ নবী (সা)-এর জীবন চরিত থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সত্য ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূলের (সা) সিরাতকে অনুসরণ করে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো মহান রবের পরিচয় ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা। নবী-রাসূলগণ মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করেছেন। তাঁর দেওয়া হুকুম আহকাম সমূহ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার সঠিক পন্থা জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই পন্থা অবলম্বন করেই রাসূল (সা) একটি সমৃদ্ধ ও শান্তির সমাজ বিনির্মান করেছিলেন। তাই মানুষের অধিকার বা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমাজ, ব্যক্তি, সর্বক্ষেত্রে আমাদের রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ও বলেছেন তা আমাদের করতে হবে এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা আমাদের বর্জন করতে হবে। এটাই একজন সত্যিকার মুসলমানের কাজ এবং এটাই ঈমানের মূল দাবি। বক্তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন ব্যক্তি জীবনের সকল ক্ষেত্রেই রাসূলের (সা) অনুসরণই ইসলামের মূল শিক্ষা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি





