আজ রোববার সরস্বতী পূজা। মাঘী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাচীন যুগে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। শতপথ ব্রাহ্মণে পূর্ণিমার তিথিতে সরস্বতীকে অঞ্জলি দেওয়া হতো। তা ছাড়া বাইরে কোনো কোনো জায়গায় আশ্বিন শুক্লা অষ্টমী তিথিতে সরস্বতী পূজার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশে শ্রীপঞ্চমীর দিনে সব কলা ও বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজা হয়ে থাকে। আসলে সকল জ্ঞানের ভাণ্ডার সূর্যাগ্নিরূপে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর-এর শক্তি জ্যোতিরূপা সরস্বতী।

সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। ভূলোক, অন্তরীক্ষলোক ও স্বর্গলোক নিয়েই জগৎ। এ জগৎ জ্যোতিরূপা সরস্বতীর জ্যোতিতে ভাস্বর। এর অমিয় জ্যোতিধারা সর্বব্যাপী। এর চিরভাস্বর আলোকে সাধকের অজ্ঞান দূরীভূত হয় এবং অন্তর পূর্ণ হয় জ্যোতিতে। এই জ্যোতিই সরস্বতী। সরস+বতু+ঈপ্‌ প্রত্যয় যোগে ‘সরস্বতী’শব্দ নিষ্পন্ন হয়েছে। সরস্‌ অর্থে জ্যোতিঃ। জ্যোতির্ময়ী বলে তিনি সর্বশুক্লা।

সরস্বতী মূর্তি-কল্পনায় নানারকম বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। কখনও লক্ষ্মীরূপ প্রাধান্য লাভ করেছে। কখনও বা সরস্বতী নিজস্ব রূপাধারে লক্ষ্মীর রূপকে প্রভাবিত করেছে। মোটামুটি উভয় মূর্তির কল্পনাতে একটা সাদৃশ্য আছে। বীণা পুস্তকধারিণী লক্ষ্মীমূর্তি দেখা যায়। কালের ব্যবধানে সরস্বতী অগ্রজা। কাজেই সরস্বতীর প্রভাব লক্ষ্মী প্রতিমার উপর পড়তে পারে। এটা হয়তো স্বাভাবিক। সে যাহোক আমরা খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে মূর্তি কল্পনার একটি ভাবময় রূপ দেখতে পাচ্ছি।

সরস্বতীর ধ্যান-মন্ত্রে এটি ফুটে উঠেছে:

ওঁ তরুণ-শকলমিন্দো-র্বিভ্রতী শুভ্রাকান্তিঃ।

কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিসণ্না সিতাজে।।

নিজকরকমলো-দ্যল্লেখনী-পুস্তকশ্রী।

সকল বিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্‌দেবতা নমঃ।।

অর্থাৎ, যার ললাটে বিরাজিত তরুণ শশিকলা, যিনি শুভ্রবর্ণা, কুচভারাবনতা, শ্বেতপদ্মে-আসীনা, যার এক হস্তে উদ্যত লেখনী ও অপর হস্তে পুস্তক শোভা পায়, সেই বাগ্‌ দেবী সকল বিভব সিদ্ধির নিমিত্ত আমাদের রক্ষা করুন।

এমকে