এই রাতটি ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণের এক অসাধারণ সুযোগ। আর এই সময়ে একটি অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় আমল হলো- আবেগ ও ভালোবাসা নিয়ে আমাদের প্রিয়নবী (স.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
জুমার রাতের ফজিলত
জুমা ইসলামে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিন। এই দিনের এই ফজিলত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়ে যায়। হাদিসে জুমার রাতকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- এই রাত দোয়া কবুলের উপযুক্ত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যে রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।— ১. জুমার রাত। ২. রজব মাসের প্রথম রাত। ৩. শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত (শবে বরাত)। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত। ৫. ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক: ৭৯২৭)
দরুদ পাঠের ফজিলত
দরুদ পাঠ করা আল্লাহর নির্দেশ এবং এর ফজিলত অগণিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং সালাম পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
নবীজি (স.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)
আরেক হাদিসে হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (স.) বলেন, ‘আমার ওপর জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ আমার উম্মতের দরুদ জুমার দিন আমার কাছে পৌঁছানো হয়। যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠাবে, সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সবচেয়ে আমার নিকটতম হবে।’ (তারগিব: ১৫৭)
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ও রাতে আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ১০০টি প্রয়োজন পূরণ করবেন। এর মধ্যে ৭০টি আখেরাতে এবং ৩০টি দুনিয়াতে।’ (বায়হাকি: ২৭৬)
দরুদ পাঠ জুমার দিনের বিশেষ আমল। হাদিসে এসেছে- ‘সর্বোত্তম দিন হলো জুমা। সুতরাং এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ জানতে চাওয়া হলো- আপনি মৃত্যুর পর কিভাবে আমাদের দরুদ শুনবেন?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ নবীদের দেহকে মাটিতে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।’ (আবু দাউদ: ১০৪৭)
হাদিসে সাধারণত ‘বেশি বেশি দরুদ পাঠ’ করার কথা বলা হয়েছে, তাই কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে ‘ফরজ বা ‘ওয়াজিব’ মনে করা ঠিক নয়। মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা। দরুদ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় নয়, বরং আমাদের প্রিয়নবী (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম।
আসুন, আমরা এই মর্যাদাপূর্ণ সময়কে কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং নিয়মিতভাবে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
এমএম