দশভুজা দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার রাজশাহীতে ৪০৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮২টি মন্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ বুধবার সপ্তমী পূজা। ৪ অক্টোবর দেবীর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, সোমবার পূর্বাহ্নে দুর্গাদেবীর শুক্লাপঞ্চমী বিহিত পূজা ও সায়ংকালে (সন্ধ্যাবেলায়) দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়। এখন মহানগরীর মন্ডপে মন্ডপে চলছে হিন্দু ধর্মানুরাগীদের ভজন, পূজন ও দেবী আরাধনা।
পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীদুর্গা পৃথিবীতে এসেছেন নৌকায় চড়ে, এর ফলস্বরূপ মর্ত্যলোক শস্যে পরিপূর্ণ হবে। অন্যদিকে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তিনি ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে, যার ফল মড়ক। অর্থাৎ পৃথিবীতে রোগশোক, মহামারীর আশঙ্কা বাড়বে।
মঙ্গলবার বেলা বারোটা উনিশ মিনিট আঠারো সেকেন্ড পর্যন্ত মহাষষ্ঠী তিথি ছিল। এরপরই শুরু হয় মহাসপ্তমী তিথি।
লোকনাথ পঞ্জিকা মতে, আজ অনুষ্ঠিত হবে মহাসপ্তমী পূজা। তবে সপ্তমীবিহিত পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি সম্পন্ন হয় বুধবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট তিন সেকেন্ডের মধ্যে। মূলত মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতেই পূজার মূল আকর্ষণ। কারণ এই তিনদিনই ভক্তরা মায়ের পায়ে পুষ্পাঞ্জলি দেন। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে দেবীর বিদায়।
এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আনন্দময়ী দেবী দুর্গার আগমনী গানে মুখরিত এখন চারদিক। মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে দেবী দর্শন ছাড়াও ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে অতিথি আপ্যায়ন। বাহারি পোশাকে আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে-রাঙিয়ে উৎসব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার জানান, এবার রাজশাহীতে ৪০৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় রয়েছে ৬৭টি। যার মধ্যে বোয়ালিয়ায় ৪৪টি, রাজপাড়ায় ১০টি, শাহ মখদুম এলাকায় ৭টি ও মতিহারে ৬টি।
এছাড়া রাজশাহী জেলার ৩৪১টির মধ্যে তানোর উপজেলায় ৫১টি, গোদাগাড়ীতে ৩৮টি, পবায় ১৯টি, মোহনপুরে ২২টি, বাগমারায় ৭১টি, দুর্গাপুরে ১৯, পুঠিয়ায় ৪৬, চারঘাটে ৩৪টি ও বাঘায় ৪১টি মন্ডপ রয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী মহানগর ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানা যায়, এবার মহানগরে ৬৭টির মধ্যে ১১টি ও জেলার ৩৪১টি পূজামন্ডপের মধ্যে ৭১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মোট সংখ্যা ৮২টি। এতে মহানগরে ৫৬টি ও জেলায় ২৭০টি সাধারণ পূজামন্ডপ রয়েছে। মহানগরীর অধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-কমিশনার (সদর) তানভির হায়দার চৌধুরী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেএ





