বিচিত্র এই পৃথিবীতে কত রকম মানুষের বাস। কেউ সাদা কেউ কালো, কেউ ধনী কেউ গরীব, কেউ লম্বা কেউ খাটো, কেউ শাসক কেউ শাসিত, আরও কত কী! এই বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্যের সুর- সুখ-দুঃখ মিলিয়েই মানুষের জীবন।

ঘরবাড়ি নেই বলে রাস্তার পাশে ফুটপাথে যাকে মাথা গুজার ঠাঁই খুঁজতে হয় তার জীবনেও যেমন সুখের পরশ থাকে, তেমনি উঁচু উঁচু অট্টালিকায় যাদের বসবাস, কাড়ি কাড়ি সম্পদের অধিকারী যারা তারাও কখনো নীল হয়ে পড়ে দুঃখ-বেদনায়।

এটাই জীবন এটাই মানুষ। এই পৃথিবীতে কেউ চায় না কষ্টে বা অভাব গ্রস্থ হয়ে জীবন কাটাক। পৃথিবীতে সব পরিবার বা মানুষ গুলই চায় সে তার কাছের মানুষ গুলর মুখে হাসি ফুটাবে। কেউ পারে বা কেউ পারে না।

মহান প্রতিপালক আল্লাহ আমাদেরকে কত নেয়ামত দান করেছেন, তা গুনে শেষ করা যায় না। এই সকল নেয়ামতের শুক্‌র আদায় করা বান্দার জন্য ফরয।

শুক্‌র আদায়ের নিয়ম হল, প্রথমত: অন্তরে এই স্বীকার করা যে, এই নেয়ামত আল্লাহর তরফ থেকে আগত। দ্বিতীয়ত: মুখে তার শুক্‌র আদায় করা।

তৃতীয়ত: কাজেও শুক্‌র প্রকাশ করা। অর্থাৎ, সেই নেয়ামত তাঁরই সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। অন্যথা নাশুকরী বা কৃতঘ্নতা হবে।

সুরা রাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ আয়াতে বলা হয়েছে:

'(৫) এবং তোমরা যদি বিস্মিত হও, তবে বিস্ময়ের বিষয় তাদের এই কথা- ‘যখন আমরা মাটিতে পরিণত হব, তখন কি আবার নতুন করে আমাদের সৃষ্টি করা হবে?’ তারাই তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে এবং তাদের কাঁধে থাকবে শৃঙ্খলগুলো; তারাই জাহান্নামী হবে, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

(৬) এবং (হে রাসূল!) তারা তোমার কাছে কল্যাণের আগেই শাস্তি বা আজাব ত্বরান্বিত করতে চায়, অথচ তাদের আগে শিক্ষণীয় বহু শাস্তির দৃষ্টান্ত রয়েছে। এবং নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি তাদের অবিচার সত্ত্বেও অতিশয় ক্ষমাশীল এবং নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক অতি কঠোর শাস্তিদাতাও।'

রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তুমি যদি চাও উহুদ পাহাড়কে স্বর্ণে পরিণত করে দেয়া হবে। রাসূল সা: বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি এটা চাই না। আমি চাই একদিন আহার করব আর তোমার শোকর আদায় করব। আরেক দিন অভুক্ত থাকব আর সবর করব।’ রাসূলের দোয়া ছিল এ রকম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে গরিব অবস্থায় রাখ, গরিব অবস্থায়ই আমার মৃত্যু দান করো, গরিবদের সঙ্গেই আমার হাশর করো।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি শরিফ)

সবর ও শোকর এ দু’টি এমন মহৎ গুণ, যা মানুষকে সরাসরি জান্নাতে পৌঁছে দেয়। সবরের দ্বারা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা হয়। যেকোনো বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করা মূলত আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজেকে চরমভাবে সোপর্দ করার নির্দেশ করে।

তাই সবরের সাওয়াব অনেক বেশি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সবরের প্রতিদান হলো জান্নাত’। (সহিহ ইবনে খুজাইমা) আরেকটি হলো শোকর। শোকর আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেন। কুরআন কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা আমার নেয়ামত পেয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো, তাহলে নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেবো। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তা হলে নেয়ামত ছিনিয়ে নেবো।’ (সূরা ইবরাহিম : ৭)

শোকর আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দাহর নেয়ামত বাড়িয়ে দেন। নেয়ামত বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বিভিন্ন রূপ হতে পারে। কখনো নেয়ামতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কখনো নেয়ামতে বরকত দান করেন। যেমন সম্পদের পরিমাণ না বাড়িয়ে তাতে বরকত দান করে দেন। এ জন্যই অনেক দ্বীনদার শ্রেণীকে দেখা যায়, অল্প রোজগারে সুখশান্তি ও তৃপ্তির সাথে জীবনযাপন করছেন।

সূরা-রা’দের কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যা

'(১১) তার (মানুষের) জন্য তার সম্মুখভাগে ও পশ্চাৎভাগে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, যে আল্লাহর নির্দেশে তাকে (অবধারিত নয় এমন বিপদ থেকে) রক্ষা করে; এবং আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে; আর আল্লাহ যখন কোন জাতিকে (তাদের কাজের জন্য) শাস্তিদানের ইচ্ছা করেন তখন কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারে না, আর তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই।'

মহান আল্লাহর নিযুক্ত প্রহরীরা দিন ও রাতে মানুষকে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করছে। মানুষের জীবনে বিপদ ও দুর্ভোগের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে, শিশুদের সামনে সব সময়ই বিপদ ওৎ পেতে থাকে। আমরা কখনও কখনও অনুভব করি যে কোনো এক শক্তি যেন ঢাল হয়ে প্রাণঘাতী নানা বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করছে। মুসলমানদের ইমাম ও মহান পথ-প্রদর্শকদের বর্ণনায় এ বিষয়ের স্বীকৃতি রয়েছে।

যেমন, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন, 'এমন কোনো ব্যক্তি নেই যাকে দু'জন ফেরেশতা হেফাজত করছে না। কিন্তু যখন বিপদ বা দূর্ঘটনার ব্যাপারে মহান আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ চলে আসে তখন ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশই মেনে নেন।'

(বি. দ্র. এই আলোচনার সাথে টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এএস