বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)৷ সেই এমআইটি থেকেই স্বীকৃতি বয়ে আনল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা৷
ভাষা আন্দোলনের মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে এমআইটি পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘এমআইটি বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এমআইটি বিএসএ)’ আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠানের। সফলভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩ মে এমআইটির অফিস অব মাল্টিকালচারাল প্রোগ্রাম এই সংগঠনের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় ‘এক্সিলেন্স ইন প্রোগ্রামিং’ পুরস্কার। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমআইটির ডিন অব স্টুডেন্ট লাইফ ক্রিস কলম্বো।
সংগঠনের সভাপতি খালিদ জাওয়েদ এমআইটির যন্ত্রকৌশল বিভাগে পিএইচডি করছেন৷ তিনি জানান, ‘নিয়ম অনুযায়ী, এ পুরস্কার এমন একটি ছাত্র সংগঠনকে দেওয়া হয়, যাদের অনুষ্ঠানে থাকে বহুজাতিক সংস্কৃতির উপাদান, যা শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বৈচিত্র্যকে আরও জানতে ও বুঝতে উৎসাহিত করে। ভাষা আন্দোলনের থিম ব্যবহার করে এই পুরস্কারপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বড় আনন্দের।’
কী হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে? চলুন শুনি আয়োজকদের একজন এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের সুজয় কুমার চৌধুরীর কাছে—‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের অংশ হিসেবে আমরা “লোগো” দিয়ে শহীদ মিনার তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক দূরত্ব কমিয়ে আনার এক উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’
এমআইটি গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট কাউন্সিলের অর্থায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ছয়টি দলে ভাগ করে ভাষা আন্দোলনের সম্মানে ডেমো শহীদ মিনার বানাতে দেওয়া হয় এবং তাঁরা সে কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে সবাইকে মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে তামান্না ইসলামের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে বিভিন্ন ভাষায় গান, নাচ ও আবৃত্তির আয়োজন করা হয়, যাতে এমআইটি ছাড়াও অংশগ্রহণ করে টাফটস, নর্থইস্টার্ন ও বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। শেষে অতিথিদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্যবিষয়ক প্রকাশনা বিতরণ করা হয়। এমআইটির সবচেয়ে পুরোনো ক্যাম্পাস পত্রিকা দ্য টেক-এর প্রকাশনায় জায়গা করে নেয় এই আয়োজন।
এমআইটিতে মোট আটজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন—স্নাতকোত্তরে পাঁচজন আর স্নাতকে তিনজন৷ কম্পিউটার কৌশলের সুমাইয়া নাজিন জানান, সংখ্যায় কম হলেও তাঁরা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভাষা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন। জীববিজ্ঞানের নাজিয়া চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘Love for language is in my heart, oppression cannot wipe it out।’ এতে বৃহত্তর বস্টনে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, ইরান, সৌদি আরব ও বেলারুশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পাঠক, এমআইটির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে আরো জানতে আপনি ভিজিট করতে পারেন তাঁদের ওয়েবসাইট mit.edu/bangladesh অথবা ফেসবুক পেইজ www.fb.com/MITBSA
[b]সেরা হলো বিএসএ[/b]
স্টুডেন্ট প্রোগ্রামিংয়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার পেল বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)। তাদের শংসাপত্রে লেখা রয়েছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে বিএসএ লেগোব্রিক ব্যবহার করে একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন রচনা ও সাংস্কৃতিক বাধা দূর করেছে। দর্শকের উপস্থিতিতে আরও কয়েকটি শিক্ষার্থী সংঘের সমন্বয়ে, প্রযুক্তির যুতসই ব্যবহার করে বিএসএ যে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে তা নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারক।
বিএসএকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, কারণ তাদের প্রোগ্রামটি ছিল সুচিন্তিত ও সুপরিচালিত। এমআইটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তোলাই এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য। বিএসএ এই প্রেরণার সঙ্গে সংগতি রেখেই তাদের প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে, যার স্বীকৃতি দেওয়া হয় পুরস্কারের মাধ্যমে। (ইংরেজি থেকে অনূদিত)
[b]লা তারি[/b]
ডিরেক্টর অব মাল্টিকালচারাল প্রোগ্রামস, এমআইটি
[b]ঢাকা,২৫ শে মে (টাইম নিউজবিডি.কম)/কেএ[/b]





