বিসিবির সাথে সাম্প্রতিক আলোচনার পর রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মালিক মোখছেদুল কামাল বাবু গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘মূলত বিপিএলকে ঢেলে সাজাতেই এবারের আসরে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে এ বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব না হলে, আগামী বছর সেটি মাঠে গড়াবে। অর্থাৎ, বিপিএল চিরতরে বন্ধ হওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা একেবারেই ভিত্তিহীন; বরং টুর্নামেন্টটি এখন একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বাবু অকপটে স্বীকার করেন, ‘যেকোনো লিগের জন্যই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শুধু খেলার সময়ই নয়, সারা বছর জুড়েই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নানা আনুষঙ্গিক কাজ থাকে। তাই হঠাৎ ছেদ পড়লে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা আক্ষেপ তৈরি হয়। তবে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং বৃহত্তর স্বার্থে এই সাময়িক বিরতি বা পরিবর্তনকে তারা হাসিমুখেই মেনে নিচ্ছেন।’

‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দলগুলোর চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে নয়, বরং খোদ বিসিবির সাথে হয়েছে। বোর্ডের সাথে তাদের পাঁচ বছরের যে প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে, সেটি বহাল থাকছে। বিসিবিও এ বিষয়ে বেশ ইতিবাচক। যে সকল ফ্র্যাঞ্চাইজি বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত ও নীতিমালা সঠিকভাবে মেনে চলবে, আগামী আসরগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।’

আয়োজক, খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সব পক্ষই যেন লাভবান হয়, এমন একটি টেকসই (সাস্টেইনেবল) মডেল দাঁড় করানোই এখন সবার মূল লক্ষ্য। হুট করে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে প্রস্তুতি নেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে চাইছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এর বদলে অন্তত পাঁচ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির পরিকল্পনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিপিএল খুব শিগগিরই বিশ্বমঞ্চে একটি শীর্ষস্থানীয় ও অনুসরণীয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

এমএম