চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ রোববার টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে টাইগাররা। দলের ৭ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং সাইফ হাসান। ২ বলে ৫ রান করে রান আউট হন তানজিদ। ৯ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ।

তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ছিলেন আরও নাজুক। ১৩ বল খেলে মোটে ১ রান করেছেন তিনি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২ রান তোলে বাংলাদেশ।

চারে নেমে এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তবে আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ৮ বলে ৬ রান করেছেন নুরুল হাসান সোহান। শামীম হোসেন পাটোয়ারী খেলেন ৫ বলে ০ রানের ইনিংস। একদমই ক্রিজে টিকতে পারছিলেন না কেউ।

হৃদয় ছিলেন সাবলীল। চাপের মুখে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন অধিনায়ক। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। সুযোগ বুঝে বাউন্ডারিও হাঁকিয়েছেন। শেষ দিকে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও। মাঝে হৃদয়ের সাথে কিছুটা লড়েছেন রিশাদ হোসেন। ১৪ বলে ১৬ রান করেছেন রিশাদ।

বাকিরা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ফিফটি হাঁকানো হৃদয় শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ৫১ বলে ৬১ রান করে। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন স্পেনসার জনসন, নাথান এলিস এবং অ্যাডাম জাম্পা। ১ উইকেট নেন নিখিল চৌধুরী।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওভারেই শরিফুল ইসলাম দিয়েছেন ১৭ রান। দুই ওপেনার অধিনায়ক মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিস শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। রকেটের গতিতে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন মার্শ-ইংলিস। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন দুজন। দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না টাইগার বোলাররা। ওপেনিং জুটিতে ৫৪ রান তোলে অজিরা। ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন জশ ইংলিস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ইংলিসকে হারিয়ে ৫৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। তবে আরেক প্রান্তে মার্শ চালিয়েছেন ব্যাটিং তাণ্ডব। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন। টাইগার বোলারদের কচুকাটা করে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও। ২৮ বলে ৬০ রানের ধুমধাড়াক্কা এক ইনিংস খেলে দলের ৮৮ রানের মাথাতে বিদায় নেন অধিনায়ক মার্শ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশ ক্রিজে জুটি বাঁধেন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। কনোলি থেমেছেন ১৩ বলে ১৫ রান করে। তাকে ফেরান রিশাদ হোসেন। তবে ততক্ষণে অজিদের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষ দিকে ৩ বলে ১২ রানের ক্যামিও খেলেছেন টিম ডেভিড। ৬ বলে ৬ রান করেন ম্যাট রেনশ। ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন এবং শরিফুল ইসলাম।

এস