বর্তমান স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে পরিশ্রমী ও বহুমুখী মিডফিল্ডারদের একজন মেরিনো। ১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারার পাম্পলোনায় জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ফুটবল পরিবারেই বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা মিগেল মেরিনোও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। বাবার পথ অনুসরণ করেই ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার।

ক্যারিয়ারের শুরু হয় স্প্যানিশ ক্লাব ওসাসুনার যুব একাডেমিতে। সেখান থেকেই সিনিয়র দলে অভিষেকের পর তার প্রতিভা নজর কাড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। ২০১৬ সালে তিনি জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন। যদিও সেখানে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল, তবু ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

এরপর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিউক্যাসল ইউনাইটেডে এক মৌসুম কাটিয়ে নিজের খেলার ধরনে আরও পরিণত হন মেরিনো। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে স্পেনে ফিরে রিয়াল সোসিয়েদাদে যোগ দেওয়ার পর। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিখুঁত পাস, বল দখলে রাখার দক্ষতা, আকাশে আধিপত্য এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতার কারণে তিনি দ্রুতই দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হন।

ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে স্পেন জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পান মেরিনো। মাঝমাঠে তার পরিশ্রম, কৌশলী পাস এবং আক্রমণ-রক্ষণে সমান অবদান রাখার সামর্থ্য তাকে কোচদের আস্থাভাজন করে তুলেছে। প্রতিপক্ষের খেলা ভাঙার পাশাপাশি আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন দেখা গেছে। ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠে আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন তিনি। তার সেই এক গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন।

স্প্যানিশ ফুটবলে মেরিনোকে কখনোই শুধু একজন গোলদাতা হিসেবে দেখা হয় না। বরং তিনি এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, প্রয়োজনমতো রক্ষণে নেমে আসেন, আবার আক্রমণেও কার্যকর অবদান রাখেন। বড় ম্যাচে শান্ত থাকা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণেই বর্তমানে স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন মিকেল মেরিনো।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার এই গোল স্পেনকে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই তোলেনি, বরং শিরোপার দৌড়ে দলটির আত্মবিশ্বাসও আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন স্প্যানিশ সমর্থকদের প্রত্যাশা, টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোতেও মাঝমাঠের এই নির্ভরযোগ্য যোদ্ধা একইভাবে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এনএইচ