ভারতের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জার্মানির হ্যানোভার মেসে বিক্ষোভ করেছে সে দেশের বাসিন্দারা। এসময় তারা ভারতের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার দাবিও জানিয়েছে।

হ্যানোভার মেসে আন্তর্জাতিক শিল্পমেলা শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল রোববার। মেলায় এবার অংশীদার রাষ্ট্র ভারত। ওই মেলার বাইরে ভারত বিরোধী এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

অসাম্প্রদায়িক দাবিদার ভারতে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গির্জায় হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমী দুনিয়া। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকার বেশ চাপের মুখেই পড়েছে।

এছাড়াও ৫০০টি স্কুলে জার্মানের বদলে সংস্কৃতকে তৃতীয় ভাষার মর্যাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ বিষয়টি নিয়েও ক্ষুব্ধ জার্মানি।

হ্যানোভার মেসে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক শিল্পমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এ সময় ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্যে আঘাত নিয়েও কিছু প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মোদিকে। জবাব দিতে জার্মানিতে মুখও খুলতে হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে।

শিল্পমেলার উদ্বোধন শেষে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্লোগান নিয়ে ইউরোপ ঘুরলেন নরেন্দ্র মোদী। আজ উত্তর আমেরিকার পথে পা বাড়িয়েছেন তিনি।

ওই শিল্পমেলাতে শিল্পপতি সঞ্জয় কির্লোস্কার বলেন, ভারত যে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ সেই বিষয়ে সঠিক সঙ্কেত দিতে হবে সরকারকে। বিদেশি লগ্নিকারীরা বেশির ভাগই খ্রিস্টান। তাঁদের মধ্যে কিছুটা হলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।’

হ্যানোভার মেসে শিল্পমেলার বাইরে ভারতের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কিছু মানুষ। সে কথাও উল্লেখ করেছেন কির্লোস্কার।

বার্লিনে মোদীর সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি ভোজের আয়োজন করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। সেখানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা একটি ভাষার জন্য টলে যাবে না। এই আত্মবিশ্বাস সকলেরই থাকা উচিত।

এক সময়ে জার্মান রেডিওতে সংস্কৃত ভাষায় সংবাদ শোনানো হতো। তখন ভারতে এই ব্যবস্থা ছিল না। সেই প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, আমার উচিত জার্মানদের প্রশংসা করা। তারা সংস্কৃতে খবর শোনানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

এআর